পরের মাসেই বিয়ের জন্য বাড়ি ফেরার কথা ছিল হিমাচল প্রদেশের কাংড়ার মার্চেন্ট নেভি অফিসারের। তার আগেই রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাঙ্কারে সওয়ার অবস্থায় আমেরিকার হাতে আটক হলেন সেই রিক্ষিত চৌহান। ওই রুশ তেল ট্যাঙ্কারে কর্মরত ছিলেন তিনি। গত সপ্তাহে উত্তর আটলান্টিক সাগরে তেলের ট্যাঙ্কারটি আটক করেছে আমেরিকা। রিক্ষিতকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছে তাঁর পরিবার।
রাশিয়ার মারিনেরা (আগে ছিল বেলা ১) নামে তেলের ট্যাঙ্কারটিকে ধাওয়া করে আটক করে আমেরিকা। ওই ট্যাঙ্কারে মোট ২৮ জন আধিকারিক, কর্মীর মধ্যে রিক্ষিত-সহ তিন জন ভারতীয়। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরে প্রথম কাজে তাঁকে ভেনেজুয়েলা পাঠিয়েছিল তাঁর নিয়োগকারী রুশ সংস্থা। তার পরিবার জানিয়েছে, ৭ জানুয়ারি রুশ ট্যাঙ্কারটিকে আমেরিকা আটক করার কিছু ক্ষণ আগে রিক্ষিতের সঙ্গে শেষ বার কথা হয়েছিল তাদের।
রিক্ষিতের মা রীতা দেবী প্রধানমন্ত্রীকে আর্জি জানিয়ে বলেন, ‘‘আমার পুত্রের ঘরে ফেরা নিশ্চিত করুন।’’ তিনি জানান, ১৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর পুত্রের বিয়ের দিন স্থির হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘এখন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছি, ও যাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসে। প্রধানমন্ত্রী, বিদেশমন্ত্রীর কাছেও আর্জি জানিয়েছি।’’ ওই জাহাজে রিক্ষিত ছাড়াও কর্মী হিসাবে ছিলেন গোয়া এবং কেরলের দুই যুবক। তাঁদের ঘরে ফেরা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন রিক্ষিতের পরিবার।
আরও পড়ুন:
রিক্ষিতের বাবা রঞ্জিত সিংহ বলেন, ‘‘শেষ বার যখন কথা হয়, তখন ও ইঙ্গিত দিয়েছিল, পরের কয়েক দিন কথা হবে না। ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার সেনা অভিযানের কারণে ওদের সেখান থেকে ফিরে আসতে নির্দেশ দিয়েছেন কর্তারা। ১০ জানুয়ারি জানতে পারি, ছেলের জাহাজ আটক করা হয়েছে।’’
রিক্ষিতকে ঘরে ফেরানোর জন্য হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিংহ সুখুর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পালমপুর প্রশাসন। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত সপ্তাহে জানান, ভারত পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছে। তাঁর কথায়, ‘‘ওই ট্যাঙ্কারে যে ভারতীয়েরা ছিলেন, তাঁদের বিষয়ে খবর নিচ্ছি।’’
জাহাজে ২৮ জন কর্মীর মধ্যে দু’জন রুশ। তাঁদের রবিবার মুক্তি দিয়েছে আমেরিকা। বাকিরা এখনও আটক।