বেল্ট দিয়ে বাঁধা কাটা মন্ডু। সেটি গাছের ডালে ঝোলানো। এমনই এক দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠে উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর কোটা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাতগোড়ি তোলা গ্রাম। জানা গিয়েছে, বারাণসী-শক্তিনগর রাজ্য সড়ক থেকে তিন কিলোমিটার দূরে পাতগোড়ি তোলার কাছে একটি জঙ্গলে ওই মুন্ডুটি দেখতে পান স্থানীয়েরা। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায়। শোরগোল পড়ে যায়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, অনেকেই ওই জঙ্গলে কাঠ কুড়োতে যান। মঙ্গলবারও কাঠ কুড়োতে গিয়েছিলেন স্থানীয় কয়েক জন। তখন তাঁরা একটি গাছে কিছু একটা ঝুলতে দেখেন। কৌতূহলবশত কাছে যেতেই তাঁরা ভয়ে চিৎকার করে পালিয়ে আসেন। তার পর আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গাছের ডালের সঙ্গে বেল্ট দিয়ে ঝোলানো ছিল একটি কাটা মুন্ডু। তবে কাছেই কিছু পোশাক এবং দেহের কিছু অংশ ছড়িয়ে পড়ে ছিল।
আরও পড়ুন:
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। ফরেনসিক দলকেও ডাকা হয়। কাটা মুন্ডু এবং দেহাংশগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। চোপান থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) অখিলেশ কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, স্থানীয় কয়েক জনের কাছে থেকে খবর পাওয়া যায় যে, জঙ্গলের মধ্যে গাছের ডালে এক ব্যক্তির মুন্ডু দেখা গিয়েছে। তার পরই ঘটনাস্থলে গিয়ে সেই মুন্ডু এবং দেহাংশ উদ্ধার করা হয়। আশপাশের এলাকায় খোঁজখবর নেওয়া হয় কেউ নিখোঁজ হয়েছেন কি না। তখন রবি নামে এক যুবক ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি ওই মুন্ডু দেখে শনাক্ত করেন সেটি তাঁর ভাই মঙ্গল প্রসাদের (১৬)। তিনি জাওয়ারি দন্ড কোটার বাসিন্দা। পুলিশ জানতে পেরেছে, গত ১৯ জানুয়ারি নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল মঙ্গল। তাঁর পরিবারের দাবি, ওই দিন রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তরুণ। তার পর থেকে তাঁর আর কোনও খোঁজ মেলেনি। চোপান থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে মঙ্গলের পরিবার। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ মনে করছে, দেহাংশটি ২০-২৫ দিনের পুরনো। মঙ্গলকে কারা এ ভাবে মারল, কেনই বা মারল, তা ঘিরে সন্দেহ বাড়ছে। পারিবারিক কোনও শত্রুতা, না কি তন্ত্রমন্ত্রের কোনও বিষয় রয়েছে, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।