E-Paper

এলপিজি ভরা জাহাজইআগে আনতে চায় কেন্দ্র

হরমুজ় প্রণালীতে আটকে পড়া জাহাজ একে একে ভারতে পৌঁছলেও ফের কবে তারা আবার তেল, গ্যাস নিয়ে আসতে পশ্চিম এশিয়া রওনা দেবে, তার অবশ্য কোনও নিশ্চয়তা নেই।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ০৯:০৫
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

একসঙ্গে সব জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী পার করে আনা সম্ভব নয়। তাই দু’টি দু’টি করেই এলপিজি, অশোধিত তেল ভর্তি জাহাজ ভারতে নিয়ে আসতে হবে। ভারতীয় জাহাজগুলির পরে ভারতমুখী বিদেশি জাহাজগুলি প্রাধান্য পাবে। এ ছাড়া এখনই আর কোনও উপায় নেই বলে নরেন্দ্র মোদী সরকার মনে করছে।

হরমুজ় প্রণালীতে আটকে পড়া জাহাজ একে একে ভারতে পৌঁছলেও ফের কবে তারা আবার তেল, গ্যাস নিয়ে আসতে পশ্চিম এশিয়া রওনা দেবে, তার অবশ্য কোনও নিশ্চয়তা নেই। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পরে হরমুজ় প্রণালীতে মোট ২৪টি ভারতীয় জাহাজ দেশে আসার পথে আটকে পড়েছিল। তার পরে ইরানের সঙ্গে দৌত্যের সুবাদে দু’দফায় মোট চারটি জাহাজ ভারতে এসে পৌঁছেছে। চারটি জাহাজই এলপিজি ভর্তি। শনিবার আরও দু’টি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ় প্রণালী পার হতে পেরেছে। বিডব্লিউ টিওয়াইআর ও বিডব্লিউ ইএলএম নামের দু’টি জাহাজ মঙ্গলবার ও বুধবারের মধ্যে ভারতে এসে পৌঁছবে। এই দু’টি জাহাজে মোট ৯৪ হাজার টন এলপিজি বা রান্নার গ্যাস রয়েছে। সরকারি হিসাবে এখনও একটি এলপিজি ভর্তি জাহাজ হরমুজ় প্রণালীতে আটকে রয়েছে। আর একটি খালি জাহাজ রয়েছে। তাতেও এলপিজি ভর্তি হবে।

সরকারি সূত্রের বক্তব্য, প্রথমে এলপিজি বহনকারী জাহাজগুলিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কারণ অশোধিত তেল রাশিয়া-সহ অন্য দেশ থেকেও আসছে। কিন্তু এলপিজি-র ক্ষেত্রে পশ্চিম এশিয়াই প্রধান ভরসা। এলপিজি ভর্তি জাহাজগুলি বার করে আনা সম্ভব হলে আরও ১৬টি জাহাজ থেকে যাবে। তার মধ্যে ৪টি জাহাজে অশোধিত তেল, একটি জাহাজে এলএনজি বা প্রাকৃতিক গ্যাস ভর্তি রয়েছে। এর সঙ্গে ভারতমুখী আরও ১০টি বিদেশি জাহাজও পারস্য উপসাগরে আটকে রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি জাহাজে এলপিজি, ৪টি জাহাজে অশোধিত তেল ও ৩টি জাহাজে এলএনজি রয়েছে। জাহাজ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা বলেন, ‘‘প্রথমে ভারতীয় জাহাজগুলিকে পার করে আনার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।’’

জাহাজ মন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য, ইরান ভারতকে মিত্র-রাষ্ট্র হিসেবে জাহাজ চলাচলে সাহায্য করলেও একসঙ্গে সব জাহাজ বার করে আনা সম্ভব নয়। কারণ যুদ্ধ চলছে। জাহাজের নিরাপত্তার দিকটিও মাথায় রাখতে হচ্ছে। শুধু ইরান বোমা দাগবে না, সেটুকু নিশ্চিত করলেই হবে না। দু’পক্ষের হানাহানির মধ্যে পড়েও জাহাজের ক্ষতি হতে পারে। তাই দু’টি দু’টি করেই সতর্কতার সঙ্গে জাহাজগুলিকে বার করে আনা হতে পারে।

একটি এলপিজি ভর্তি জাহাজে মোটামুটি ভাবে গোটা দেশে একদিন এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করার মতো গ্যাস থাকে। তাই পশ্চিম এশিয়া থেকে তেল বা গ্যাস ভারতে পৌঁছে দিয়ে জাহাজগুলি ফের রওনা হয়ে যায়। যে সব জাহাজ ভারতে এসে পৌঁছচ্ছে, তা আবার কবে গ্যাস, তেল ভরার জন্য রওনা হবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ সচিব বলেন, ‘‘আমরা এখনও সেই জায়গায় পৌঁছতেই পারিনি।’’

আজ পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, এখনও আতঙ্কে এলপিজি সিলিন্ডারের বুকিং চলছে। তাই সিলিন্ডার জোগানে সময় বেশি লাগছে। আগে দু’দিনের মধ্যে সিলিন্ডার সরবরাহ হত। এখন অন্তত চার-পাঁচ দিন লাগছে। স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা চলছে।

মোদী সরকার আজ এও জানিয়েছে, আসন্ন খরিফ মরসুমের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে। তবে সার তৈরির জন্য বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। ফলে সারে ভর্তুকির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। সার দফতরের অতিরিক্ত সচিব অপর্ণা শর্মার বক্তব্য, খরিফ মরসুমে প্রায় ৩৯০ লক্ষ টন সার প্রয়োজন হবে বলে অনুমান। গৃহস্থের জন্য রান্নার গ্যাস জোগানোকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় ইউরিয়া সার উৎপাদন ধাক্কা খেয়েছে। তবে এখন ১৮০ লক্ষ টন সার মজুত রয়েছে। গত বছর এই সময়ে ১৪৭ লক্ষ টন সার মজুত ছিল। ২৭টি সার কারখানায় এখন গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

LPG supply

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy