মণিপুরে ফের ছড়াচ্ছে অশান্তি। নাগা এবং কুকি জনজাতির মধ্যে সম্প্রতি অশান্তি ছড়ায় মণিপুরের কাংপোকপি জেলায়। চলতি মাসে বেশ কয়েক দফা উত্তেজনা ছড়িয়েছে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে। গত ২৬ জানুয়ারি তা চরম আকার নেয়। কুকি জনজাতির বেশি কিছু বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন নাগা বিদ্রোহীরা। তার পর থেকে এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে এলাকায়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বৈঠকে বসে দুই জনগোষ্ঠীর শীর্ষ সংগঠন। ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল (ইউএনসি) এবং কুকি ইনপি মণিপুর (কেআইএম)-এর শীর্ষনেতারা আলোচনায় বসেন চুরাচাঁদপুরে। নাগা জনগোষ্ঠীর দুই বিধায়ক ডিঙাংলুং গ্যাংমেই (বিজেপি) এবং আওয়াংবো নিউমাই (নাগা পিপল্স ফ্রন্ট)-এর উদ্যোগেই এই বৈঠক হয় বলে জানা যাচ্ছে। বৈঠক শেষে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে সকল সম্প্রদায়কে শান্তি বজায় রাখার অনুরোধ করেছে ইউএনসি এবং কেআইএম। তবে এলাকা এখনও দৃশ্যত থমথমেই রয়েছে।
মণিপুরের কাংপোকপি জেলায় বসবাসকারীদের বেশির ভাগই কুকি জনজাতির। তবে এখানে বিভিন্ন নাগা উপজাতিরও বাস রয়েছে। চলতি মাসে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বেশ কয়েক দফা উত্তেজনা ছড়ায়। গত ২৬ জানুয়ারি, সাধারণতন্ত্র দিবসের দিন কুকিদের বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ওই ঘটনার দায়স্বীকার করে নাগাদের এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী জেলিয়াংরং ইউনাইটেড ফ্রন্ট। যদিও ওই বিদ্রোহীদের দাবি, ওই বাড়িগুলি আফিম চাষের জন্য ব্যবহার করা হত। শুধুমাত্র সেই বাড়িগুলিই তারা পুড়িয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
বস্তুত, চলতি মাসে পথ অবরোধ ঘিরে আগে থেকেই এই দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। দুই জনজাতিই একে অপরের বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে জমি দখল করে রাখার অভিযোগ তুলছিল। এরই মধ্যে গত দু’সপ্তাহ ধরে নাগা জনগোষ্ঠীর মানুষেরা একটি রাস্তা অবরোধ করে রেখেছিলেন। এই রাস্তাটিই কাংপোকপি এবং চুরাচাঁদপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করেন কুকি জনজাতির বাসিন্দারা। মঙ্গলবার চুরাচাঁদপুরের বৈঠকের পরে বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে দুই জনজাতিরই শীর্ষ সংগঠন।