হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতের দিকে এগিয়ে আসছে দেশের দু’টি জাহাজ— শিবালিক এবং নন্দাদেবী। শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এসসিআই)-র ওই দু’টি জাহাজে এলপিজি রয়েছে। সূত্রের খবর, ইরান এবং হরমুজ় প্রণালীর আশপাশের দেশগুলির সহযোগিতাতেই
জাহাজ দু’টি নির্বিঘ্নে ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। আরও একটি জাহাজ পূর্ব এশিয়া থেকে হরমুজ় পেরিয়ে আফ্রিকায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছে। এই হরমুজ় প্রণালী দিয়ে ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ যাতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে, সেই নিয়ে গত কয়েক দিন তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছে নয়াদিল্লি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার পরেই হরমুজ় পেরিয়ে ভারতের দিকে রওনা হয়েছে জাহাজ দু’টি।
হরমুজ় প্রণালীর দুই প্রান্তে এখনও ভারতের অন্তত দু’ডজন পণ্যবোঝাই জাহাজ আটকে রয়েছে। সেগুলি যাতে নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছোয়, সে জন্য পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে চার বার ফোনে কথা বলেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেন মোদীও। তার পরেই ভারতে ইরানের রাষ্ট্রদূত আশ্বাস দেন, হরমুজ় দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করবে ভারতের বাণিজ্যিক জাহাজ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। প্রত্যাঘাত করেছে ইরানও। ইরান জানিয়ে দেয়, হরমুজ় দিয়ে তারা কোনও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে দেবে না। তার পর থেকে ওই প্রণালীর দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে শতাধিক জাহাজ। তার মধ্যে ভারতের ২৮টি জাহাজ রয়েছে। এ বার দু’টি জাহাজ হরমুজ় পেরিয়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। শিবালিকে রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি। নন্দাদেবীতেও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এলপিজি। অন্য দিকে, পূর্ব এশিয়া থেকে একটি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ় পেরোতে প্রস্তুত হয়েছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশকুমার সিংহ জানিয়েছেন, জগপ্রকাশ নামে ওই জাহাজ ওমান থেকে আফ্রিকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তাতে রয়েছে গ্যাসোলিন।
আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতীয় যত জাহাজ চলাচল করছে বা নোঙর করা রয়েছে, তাতে কাজ করেন ২৩ হাজার ভারতীয়। হরমুজ় দিয়ে জাহাজের যাতায়াত বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছিলেন ওই কর্মীরা। দেশে এলপিজি নিয়ে তৈরি হয় উদ্বেগ। কেন্দ্রীয় তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানায়, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার কারণে ভারতে গ্যাস সরবরাহের ৩০ শতাংশ ব্যাহত হয়েছে। ভারত প্রতি দিনের ১৯.১ কোটি আদর্শ ঘনমিটার (স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার) গ্যাস ব্যবহারের প্রায় অর্ধেকই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। একটি রিপোর্টে দাবি, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম এশিয়া থেকে প্রায় ৬ কোটি আদর্শ ঘনমিটার (স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার)-এরও বেশি গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার।
বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেন মোদী, যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম বার। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং অসামরিক পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলে জানা গিয়েছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে সে দেশে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি পণ্য ও জ্বালানি পরিবহণের পথ নিরবচ্ছিন্ন রাখাকেই নয়াদিল্লি বর্তমানে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শুক্রবার ভারতে ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি জানান, হরমুজ় দিয়ে ভারতগামী কোনও জাহাজকে যাতায়াত করতে তাঁরা বাধা দেবেন না। ফাথালির কথায়, ‘‘ভারত এবং ইরান বন্ধু। আমরা তাতে বিশ্বাস করি।’’ তার পরেই হরমুজ় পেরিয়ে এল ভারতীয় জাহাজ।