স্কুলচত্বরে দাঁড়িয়ে অভিভাবকদের উপর একনাগাড়ে চিৎকার, গালিগালাজ! সন্তানদের স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি অধ্যক্ষের। সে রকমই একটি ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর হইচই পড়ল উত্তরপ্রদেশে। আলোড়ন পড়েছে সমাজমাধ্যমেও। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের ওই স্কুল অধ্যক্ষের নাম মমতা মিশ্র। হারদোইয়ের সানবিম স্কুলের অধ্যক্ষ তিনি। জানা গিয়েছে, স্কুলের পড়ুয়ার অভিভাবকেরা স্কুলের বেতন কমানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁর কাছে আর্জি জানানোর পর মেজাজ হারিয়ে ফেলেন তিনি। চিৎকার করতে শুরু করেন। অভব্য ভাষায় কথা বলার পাশাপাশি সন্তানদের স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ।
আরও পড়ুন:
সমাজমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, অভিভাবকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছেন মমতা। ওই অভিভাবকদের উপর চিৎকার করে বার বার ‘চুপ করুন’ ও ‘দূর হোন’ বলতে শোনা যাচ্ছে তাঁকে। এমনকি ওই অভিভাবকেরা ‘নাটক’ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি। গালিগালাজও করেন। এর পর অধ্যক্ষকে বলতে শোনা যায়, ‘‘রেজিস্টার থেকে সন্তানদের নাম কেটে দিন।’’ অন্য দিকে অভিভাবকদের নিজেদের অবস্থানে অটল থাকতে এবং অস্পষ্ট ভাবে কিছু বিড়বিড় করতে দেখা যায়। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছেন ওই অধ্যক্ষ।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘রণবিজয় সিংহ’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখে নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। অভিভাবকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ এবং পড়ুয়াদের স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকির জন্য অধ্যক্ষকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করারও দাবি তুলেছেন নেটাগরিকদের একাংশ। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘স্কুলের অভিভাবকদের মানহানি এবং মানসিক নির্যাতনের জন্য অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করা উচিত।’’ অন্য এক জন যোগ করেছেন, ‘‘অধ্যক্ষ ম্যাডাম ইংরেজিতে সুন্দর ভাবে সাজানো গালিগালাজ করছেন। ঈশ্বর জানেন তিনি বাচ্চাদের কী ধরনের শিক্ষা দিচ্ছেন।’’
আরও পড়ুন:
বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক মাথাচাড়া দিতেই ওই ভিডিয়োর পাল্টা একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন ওই অধ্যক্ষ। সেখানে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সেই ভিডিয়োয় তিনি বলেন, ‘‘সানবিম স্কুলে রেকর্ড করা একটি ভিডিয়ো এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে। সেখানে আমি অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছি, যার জন্য আমাকে অনেকে দোষারোপ করছেন। কিন্তু আমি কেন ওই ভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলাম, তা কেউ জানে না।’’
আরও পড়ুন:
অধ্যক্ষ মমতার দাবি, ভিডিয়োতে যে অভিভাবকদের দেখা যাচ্ছে, তাঁরা তাঁদের সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলেন এবং একাধিক বার স্কুলের বেতন কমানোর জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তিনি নাকি রাজিও হয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি, তাঁরা তাঁদের দ্বিতীয় সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করান এবং তাঁকে আবারও বেতন কমানোর জন্য অনুরোধ করতে শুরু করেন। অধ্যক্ষের কথায়, ‘‘ওঁরা এমন এক দিনে এসেছিলেন যে দিন আমরা শিশুদের টিকা দেওয়ার কাজ করছিলাম। তাঁরা পুরোপুরি অবগত ছিলেন যে, সে দিন শিশুরা তাঁদের অভিভাবকদের সঙ্গে আসবে এবং সবাই কিছুটা সংবেদনশীল থাকবে। ওঁরা ক্রমাগত আমাকে বিরক্ত করছিলেন। আমি বলেছিলাম যে পরে কথা বলব। কিন্তু ওই দুই অভিভাবক নাছোড়বান্দা ছিলেন।’’
অধ্যক্ষ আরও দাবি করেছেন, তিনি বেশ কয়েক বার গরিব শিশুদের স্কুলের ফি কমিয়ে দিয়েছেন এবং যাদের সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য তা মকুবও করে দিয়েছেন। কিন্তু শিশুদের টিকা দেওয়ার সময় ওই অভিভাবকেরা ঝামেলা করার কারণেই তিনি মেজাজ হারিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন মমতা। অধ্যক্ষের পোস্ট করা ভিডিয়োটিও ভাইরাল হয়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োরও সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।