E-Paper

‘ভাগ্য ভাল আমাদের বাড়ির কথা বলেনি’

পরিস্থিতিটা আরও কঠিন পারভেজ আহমেদ জোথার ও বশির আহমেদ জোথারের পরিবারের পক্ষে।

সাবির ইবন ইউসুফ

শেষ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪০
বৈসরনে নিহতদের স্মৃতিতে সৌধ।

বৈসরনে নিহতদের স্মৃতিতে সৌধ। নিজস্ব চিত্র ।

কেটেছে এক বছর। পহেলগামের বৈসরনে উপত্যকায় জঙ্গি হামলায় পর্যটকদের মৃত্যুর পরে যেন এখনও ঠিক স্বাভাবিক হয়নি কাশ্মীরের মন।

আজ সেই হামলার বার্ষিকীতে পহেলগাম শহরের জনপ্রিয় নিজস্বী পয়েন্টের কাছে নিহতদের স্মরণ করলেন অনেকে।

কিন্তু পরিস্থিতিটা আরও কঠিন পারভেজ আহমেদ জোথার ও বশির আহমেদ জোথারের পরিবারের পক্ষে। পহেলগাম হামলার পরে পহেলগামের বাটকোটের বাসিন্দা পারভেজ ও হিল পার্কের বাসিন্দা বশিরকে গ্রেফতার করে এনআইএ। তাদের দাবি, পহেলগামে হামলাকারী পাকিস্তানি জঙ্গিদের আশ্রয় ও খাবার দিয়েছিল এই দুই স্থানীয় যুবক। হিল পার্কের একটি কুঁড়ে ঘরে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পারভেজ ও বশিরের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-তে মামলা করা হয়েছে।

তার পর থেকেই সামাজিক, মানসিক দিক থেকে ঘোর অস্বস্তিতে পড়েছেন ওই দুই যুবকের পরিবারের সদস্যেরা। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছাও নেই বিশেষ। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক জন শুধু বললেন, ‘‘বিষয়টা আমাদের এখনও ঠিক বিশ্বাস হয়নি। এনআইএ-র দাবিতে হিল পার্কের একটি কুঁড়ে ঘরের কথা বলা হয়েছে। ভাগ্য ভাল আমাদের বাড়ির কথা বলা হয়নি।’’

পহেলগাম হামলার মতো ঘটনার জেরে হওয়া মামলা যে যথেষ্ট গুরুতর হবে তা বলাই বাহুল্য। সে জন্য আইনি সাহায্য পেতেও দৌড়োদৌড়ি করতে হচ্ছে দুই অভিযুক্তের পরিবারকে।

আজ সকালে পহেলগামের জনপ্রিয় নিজস্বী পয়েন্টের কাছে জড়ো হয়ে নিহতদের স্মরণ করেন স্থানীয়দের একাংশ, বেশ কয়েক জন পর্যটক ও শিবসেনা কর্মীদের একাংশ। সাধারণত দিনের ওই সময়ে ব্যস্ত থাকে শহরের ওই এলাকা। কিন্তু ওই সময়ে পুরোপুরি স্তব্ধ ছিল এলাকা। মোমবাতি জ্বালিয়েছিলেন কয়েক জন। বাকিরা দাঁড়িয়েছিলেন হাত জোড় করে। নিহতদের জন্য তৈরি স্মৃতিসৌধ সাজানো হয়েছিল ফুল ও ছবিতে।

স্থানীয় এক দোকানি বলছিলেন, ‘‘অনেক বেদনাদায়ক স্মৃতি ফিরিয়ে আনল দিনটা। ঘটনার পরে হওয়া গোলমাল, আতঙ্ক মনে পড়ছে। এই দিনটা নিহত ও তাঁদের পরিবারকেই উৎসর্গ করেছি আমরা।’’

পর্যটন ব্যবসায়ী শিজ়ান আকবর, দোকানি আব্দুল মজিদেরা একসুরেই জানালেন, ‘‘মনে হচ্ছে গতকাল ঘটনাটা ঘটেছে। আমরা দুঃখে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।’’ এক উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসারের কথায়, ‘‘উপত্যকা অনেক যন্ত্রণা দেখেছে। কিন্তু কখনও তার মানসিকতা বদলায়নি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Pahalgam

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy