Advertisement
E-Paper

‘ফিরে আয়, এ কেমন জিহাদ যার জন্য বাবা-মাকে ছেড়ে যেতে হয়’! জঙ্গিদলে যোগ দেওয়া পুত্রের কাছে শেষ আর্তি কাশ্মীরি মায়ের

জনা বেগম। জম্মু-কাশ্মীরের কিশ্তওয়ারের বাসিন্দা। মাসখানেক আগেই পুত্রের উদ্দেশে বলেছিলেন, বাড়ি ফিরে এসে তাঁদের যেন দেখাশোনা করেন। তাঁর শরীর-স্বাস্থ্যও ভাল যাচ্ছে না বলে পুত্রের উদ্দেশে বার্তা দেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:১২
জঙ্গিদলে যোগ দেওয়া পুত্রের কাছে এক মায়ের (জনা বেগম) কার্তর আর্তি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

জঙ্গিদলে যোগ দেওয়া পুত্রের কাছে এক মায়ের (জনা বেগম) কার্তর আর্তি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

হাতজোর করে ভিক্ষাপ্রার্থনা করছেন এক মহিলা। পুত্রের কাছে তাঁর কাতর আর্তি, ‘‘বাড়ি ফিরে আয়। আমাকে কে দেখাশোনা করবে। আমি মরলে কে কাঁধ দেবে আমার শবযাত্রায়।’’ এ দৃশ্য জম্মু-কাশ্মীরের। পুত্রের কাছে এই কাতর আবেদন এক কাশ্মীরি মায়ের। জঙ্গিদলে যোগ দিয়েছেন তাঁর পুত্র রিয়াজ় আহমেদ। তাঁর উদ্দেশেই কথাগুলি বলতে শোনা গিয়েছে মহিলাকে।

জনা বেগম। জম্মু-কাশ্মীরের কিশ্তওয়ারের বাসিন্দা। মাসখানেক আগেই পুত্রের উদ্দেশে বলেছিলেন, বাড়ি ফিরে এসে তাঁদের যেন দেখাশোনা করেন। তাঁর শরীর-স্বাস্থ্যও ভাল যাচ্ছে না বলে পুত্রের উদ্দেশে বার্তা দেন। জনা বলেন, ‘‘এ কোন ধরনের জিহাদ, যার জন্য ঘরবাড়ি, পরিবার, সংসার, বাবা-মাকে ছেড়ে যেতে হয়।’’ তার পরই রিয়াজ়ের উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, হিংসার পথ ছেড়ে তিনি যেন বাড়ি ফিরে আসেন। সেই বার্তা তাঁর পুত্রের কাছে পৌঁছেছিল কি না তা স্পষ্ট নয়। কিন্তু পুত্রের জঙ্গিদলে যোগ দেওয়ার বিষয়টি শোনার পর থেকেই জনা শারীরিক এবং মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

পুলিশ সূত্রে খবর, ১৫ বছর আগে এক দিন হঠাৎ বাড়ি থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন রিয়াজ়। স্থানীয়দের দাবি, তার পর থেকে অনেক খোঁজখবর চালায় তাঁর পরিবার। কিন্তু কোনও হদিস পায়নি তাঁর। মাসকয়েক আগে জনা জানতে পারেন তাঁর ছেলে জীবিত এবং তিনি জঙ্গিদলে যোগ দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, বাড়ি ছাড়ার পর রিয়াজ় হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গিদলে যোগ দেন। তাঁর মাথার দাম ১০ লক্ষ টাকা। মাস দুয়েক আগে জনা তাঁর পুত্রের কাছে আর্জি জানান, তিনি যেন হিংসার পথ ছেড়ে বাড়ি ফিরে আসেন। তাঁদের দেখাশোনা করেন। সেটাই ছিল তাঁর শেষ আর্তি। তিন দিন আগে জনার মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শেষকৃত্যেও হাজির হতে পারেননি রিয়াজ়। জনার শেষ ইচ্ছা অপূর্ণই থেকে গেল।

এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, এ রকম অনেকেই হঠাৎ করে উধাও হয়ে যাচ্ছেন। তার পর এক দিন জানা যাচ্ছে, ওই যুবক জঙ্গিদলে যোগ দিয়েছেন। এখন তো আবার মগজধোলাইয়ের জন্য অল্পবয়সিদের বেছে নিচ্ছে জঙ্গিরা। তাঁর কথায়, ‘‘জম্মু-কাশ্মীরে আনাচেকানাচে এমন অনেক জনা বেগম রয়েছেন, যাঁরা তাঁদের সন্তানের অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে আছেন।’’

Terrorist
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy