মোদী সরকারের বিকশিত ভারত জি রাম জি আইনকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে অভিযোগ তুলে কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টে যাবে।
মনরেগা-র খোলনলচে বদলে মোদী সরকার বিকশিত ভারত জি রাম জি আইন চালু করেছে। এখন থেকে কেন্দ্রীয় সরকার রোজগার গ্যারান্টি প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরির পুরো খরচ দেওয়ার বদলে শতকরা ষাট ভাগ খরচ বহন করবে। বাকি চল্লিশ শতাংশ খরচ রাজ্যকে করতে হবে। কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র তথা ইউপিএ সরকারের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী জয়রাম রমেশের অভিযোগ, রাজ্যের উপরে আর্থিক দায় চাপিয়ে দেওয়া হলেও রাজ্যগুলির সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। মোদী সরকার রাজ্যগুলির সঙ্গে ঐকমত্য তৈরির চেষ্টা করেনি। সংবিধান অনুযায়ী কেন্দ্রকে আগে রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনা করতে হত। কিন্তু তা হয়নি। রোজগারের আইনি অধিকারই কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এই প্রশ্ন তুলেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হবে।
বিকশিত ভারত-জি রাম জি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে কংগ্রেস আজ দেশ জুড়ে ৪৫ দিনের ‘মনরেগা বাঁচাও সংগ্রাম’ ঘোষণা করেছে। আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রাম, ব্লক, জেলা, রাজ্য স্তর থেকে বিভিন্ন রকমের কর্মসূচি চলবে। ৭ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমস্ত রাজ্যে রাজভবন ঘেরাও হবে। ১৬ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম— দেশের চারটি অঞ্চলে চারটি জনসভা হবে।
কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল আজ দাবি করেছেন, মোদী সরকারকে যে ভাবে জমি অধিগ্রহণ আইনে সংশোধনে অধ্যাদেশ জারি করেও পিছু হঠতে হয়েছিল, তিন কৃষি আইন চালু করেও তা প্রত্যাহার করতে হয়েছিল, ঠিক সেই ভাবে বিকশিত ভারত-জি রাম জি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। বেণুগোপাল জানিয়েছেন, পঞ্জাব, তেলঙ্গানা বিধানসভায় জি রাম জি আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ হবে। ইন্ডিয়া জোটের অন্য দলগুলির সঙ্গেও এ নিয়ে কথা হবে। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে সব বিরোধী দল মনরেগা থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম মুছে দেওয়া ও আইনে বদলের বিরোধিতা করেছিল এককাট্টা হয়ে।
কংগ্রেস সূত্র অবশ্য মনে করছে, মোদী সরকার জমি অধিগ্রহণ আইন সংশোধন করে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ সহজ করতে চাইলেও বড় কৃষক বা জমির মালিকরা তার বিরোধিতা করেছিলেন। একই ভাবে পঞ্জাব, হরিয়ানা, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের ধনী চাষিরা তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই তুলনায় মনরেগা কর্মী বা মূলত খেতমজুর, পরিযায়ী শ্রমিকদের জাতীয় স্তরে কোনও সংগঠন নেই। আর্থিক শক্তিও নেই। ফলে সেই ভাবে আন্দোলন গড়ে তোলা কঠিন। তার উপরে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ুর মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী শাসিত রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মরসুম শুরু হয়ে যাবে। কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক বেণুগোপালের অবশ্য যুক্তি, তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে দিল্লিকে ঘিরে আন্দোলন হয়েছিল। মনরেগা ফেরানোর দাবিতে নিচু স্তর থেকে আন্দোলন তৈরি হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)