Advertisement
E-Paper

কংগ্রেসের অভিযোগ খারিজ ত্রিপুরার অর্থমন্ত্রীর

সরকারি কর্মীরা বছরের পর বছর আর্থিক বঞ্চনার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। বাজেটে বেতন ও পেনশনের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ অন্য খাতে বামফ্রন্ট সরকার সরিয়ে রাখছে বলে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের সুদীপ রায়বর্মণের তোলা অভিযোগকে আজ নস্যাত্‌ করলেন ত্রিপুরার অর্থমন্ত্রী ভানুলাল সাহা।

আশিস বসু

শেষ আপডেট: ১৯ জুলাই ২০১৫ ০২:৪৫

সরকারি কর্মীরা বছরের পর বছর আর্থিক বঞ্চনার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। বাজেটে বেতন ও পেনশনের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ অন্য খাতে বামফ্রন্ট সরকার সরিয়ে রাখছে বলে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের সুদীপ রায়বর্মণের তোলা অভিযোগকে আজ নস্যাত্‌ করলেন ত্রিপুরার অর্থমন্ত্রী ভানুলাল সাহা। রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর পাল্টা অভিযোগ, ‘‘পরিকল্পনা বহির্ভূত খাতের অর্থ ব্যয় নিয়ে যে সব প্রশ্ন তথা অভিযোগ কংগ্রেস এনেছে, তার পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক অভিসন্ধি।’’ বিরোধী নেতা সুদীপ রায়বর্মণ কার্যত শিক্ষক ও সরকারি কর্মীদের খেপিয়ে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক যড়যন্ত্র করছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

উল্লেখ্য, ‘তথ্য জানার অধিকার’ (আরটিআই) আইনের সাহায্যে কেন্দ্রীয় সংস্থা এ জি (ত্রিপুরা)-র কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিরোধী দলনেতা সুদীপ রায়বর্মণের অভিযোগ, ‘‘২০০৯-১০ আর্থিক বছর থেকে ২০১৪-১৫, এই পাঁচ বছরে বিধানসভায় পেশ করা বাজেট এবং বছর শেষের সংশোধিত বাজেট পরীক্ষা করে এ জি (ত্রিপুরা) দেখেছে সরকারি কর্মীদের বেতন এবং পেনশন খাতে নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ করা হলেও তা কর্মী ও পেনশনারদের সম্পূর্ণ দেয়নি রাজ্য সরকার। পাঁচ বছরে এই না দেওয়া অর্থের পরিমাণ ১৪৭৩ কোটি ১২ লক্ষ টাকা। এ টাকা কর্মী ও পেনশনারদের প্রাপ্য ছিল।’’ সুদীপবাবুর অভিযোগ, ‘‘এ টাকা রাজ্য সরকার বেআইনি ভাবে অন্য খাতে সরিয়ে দিয়েছে।’’

ভানুবাবুর বক্তব্য, ত্রয়োদশ অর্থ কমিশন ত্রিপুরা সরকারকে পর্যাপ্ত অর্থ দেয়নি। দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের আমলে ২০০৯-১০ সালকে ভিত্তি বর্ষ ধরে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার উদ্দেশে রাজ্য সরকার ২২০০ কোটি টাকা কেন্দ্রের কাছে চেয়েছিল। তা দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। তা ছাড়া, ত্রয়োদশ অর্থ কমিশন বহু কোটি টাকা কম দেয়। অর্থমন্ত্রীর অভিযোগ ‘‘বিরোধী নেতা সব জেনেশুনেই রাজ্যবাসীকে বিভ্রান্ত করছেন।’’ তিনি বলেন, ‘‘প্রতি বছরই বাজেটে বেতন খাতে বাড়তি অর্থ ধরা হয়। অর্থ দফতরের হাতে প্রতি বাজেটেই বেশি অর্থ ধরা থাকে। খরচ না হলে তা পরের বাজেটে ‘ক্যারি ফরোয়ার্ড’ করা হয়।’’

অর্থমন্ত্রী ভানুলালের এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে ২০১১ সালে রাজ্য সরকারের তৈরি ‘ডেলিগেশন অফ ফিনানসিয়াল পাওয়ার অ্যাক্ট’-এর কথা উল্লেখ করেছেন সুদীপ রায়বর্মণ। তিনি বলেন, ‘‘এই আইনে পরিষ্কার উল্লেখ করা হয়েছে বেতন, মজুরি বা পেনশনের জন্য ধার্য টাকা অন্য খাতে ব্যয় করা বা সরিয়ে রাখা যায় না।’’ তাঁর কথায়, ‘‘আসলে রাজ্য সরকার ও অর্থমন্ত্রী সবাই একই সঙ্গে ত্রিপুরার সরকারি কর্মীদের বোকা বানাচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যানের কারচুপি জন সমক্ষে তুলে ধরে কংগ্রেস তারই প্রতিবাদ করছে।’’

Tripura Corruption finance minister Agartala
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy