আমেরিকার রক্তচক্ষুর সামনে দাঁড়িয়ে চাবাহার বন্দর ব্যবহার করা নিয়ে বিভিন্ন উপায়ের কথা ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে নয়াদিল্লি। তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য করলে বাড়তি জরিমানা হিসাবে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
অথচ ইরানের দক্ষিণ উপকূলে সিস্তান-বালুচেস্তান অঞ্চলে অবস্থিত চাবাহার বন্দর ভারত আর ইরান যৌথ ভাবে গড়ে তুলছে। বন্দরের একটি টার্মিনাল সম্পূর্ণ ভাবে ভারত পরিচালনা করে। এখানে ভারতের কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। পাকিস্তানকে এড়িয়ে ভারত মহাসাগরের মাধ্যমে আফগানিস্তান-সহ মধ্য এশিয়া, ইউরোপ ও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই বন্দর ভারতের কাছে কৌশলগত ভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এটা ঘটনা যে, ইরানের চাবাহার বন্দর ব্যবহারে ভারতের উপরে যে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন, ৬ মাসের জন্য সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। সেই নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের মেয়াদ রয়েছে আরও চার মাস। আজ এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জায়সওয়াল বলেন, “আপনারা জানেন, গত ২৮ অক্টোবর আমেরিকার পক্ষ থেকে চাবাহার ব্যবহার নিয়ে শর্তসাপেক্ষে ছাড় দিয়েছিল। তার মেয়াদ রয়েছে এই বছরের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত। আমরা এই বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে কথা বলছি ও কী ব্যবস্থা করা যায় তা দেখা হচ্ছে।”
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, ভারত চাবাহার বন্দর থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছে আমেরিকার শুল্ক চাপের মুখে পড়ে। এই প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবেই বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র আমেরিকার সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা ছাড় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ এনেছেন। তাঁর কথায়, ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক। পরিস্থিতি কোন দিকে যায় সেদিকে নজর রাখছে নয়াদিল্লি। সূত্রে এ কথাও জানানো হয়েছে, ইরান পরিস্থিতি কিছুটা প্রশমিত হতে চলেছে এমন পূর্বাভাস সাউথ ব্লক পেয়েছে।
গোটা বিষয়টি নিয়ে আসরে নেমেছে কংগ্রেস। আজ দলীয় বিবৃতিতে বলা হয়েছে নরেন্দ্র মোদী ফের ট্রাম্পের সামনে আত্মসমর্পণ করলেন। কৌশলগত ভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরে ইতিমধ্যেই করদাতাদের ১২ কোটি ডলার সরকার ব্যয় করেছে। কিন্তু তা স্রেফ হাওয়ায় উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ কংগ্রেসের।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)