Advertisement
E-Paper

খামখেয়ালি ট্রাম্পকে নিয়ে চিন্তায় দিল্লি

কেন্দ্রের বক্তব্য, নয়াদিল্লিতে নতুন রাষ্ট্রদূতের পদে নিয়োগও ঝুলিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন। পাঁচ মাস হয়ে গিয়েছে, রিচার্ড বর্মা দায়িত্ব ছেড়েছেন। কাজ সামলাচ্ছেন ডেপুটি চিফ অব মিশন।

অগ্নি রায়

শেষ আপডেট: ০৪ অগস্ট ২০১৭ ০৩:৫০
এস জয়শঙ্কর

এস জয়শঙ্কর

ডোনাল্ড ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনায় যথেষ্ট বিপাকে সাউথ ব্লক! ভারত-মার্কিন চুক্তির অধীনে যে সব প্রকল্প রয়েছে তার বাস্তবায়নও প্রায় গোল্লায় যাওয়ার পথে। সম্প্রতি বিদেশনীতি সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির একটি বৈঠকে এ কথা সদস্যদের জানিয়েছেন বিদেশসচিব এস জয়শঙ্কর।

ওই বৈঠকে কমিটির সদস্যদের কাছে সমস্যার ক্ষেত্রগুলি বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। জানানো হয়েছে, ভারত-আমেরিকার মধ্যে আমলাতান্ত্রিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে ফাঁক। বারাক ওবামা-পরবর্তী মার্কিন প্রশাসনের বহু পদ এখনও শূন্য। ফলে শীর্ষ পর্যায়ে নরেন্দ্র মোদী–ট্রাম্প বৈঠক হলেও ভারত-মার্কিন কৌশলগত সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের বিভিন্ন দফতরের শীর্ষ পদে কেউ নেই। তাই বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষা, অসামরিক পরমাণু চুক্তি— সব ক্ষেত্রেই থমকে রয়েছে আলোচনা।

কেন্দ্রের বক্তব্য, নয়াদিল্লিতে নতুন রাষ্ট্রদূতের পদে নিয়োগও ঝুলিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন। পাঁচ মাস হয়ে গিয়েছে, রিচার্ড বর্মা দায়িত্ব ছেড়েছেন। কাজ সামলাচ্ছেন ডেপুটি চিফ অব মিশন। পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে কেনেথ জেশ্চারের নাম শোনা গেলেও নিয়োগ এখনও দূর অস্ত্। ফলে দিল্লির মার্কিন দূতাবাসও আদৌ সক্রিয় নয়। অথচ দু’দেশের রোজকার কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রশ্নে রাষ্ট্রদূতদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিদেশ মন্ত্রক মনে করছে, ট্রাম্প প্রশাসনে কেউ দায়িত্ব পেলেও তিনি কত দিন টিকবেন সেটাও বুঝে ওঠা যাচ্ছে না। যে ভাবে ট্রাম্প বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছেন, সরিয়ে দিচ্ছেন, তাতে সামগ্রিক ভাবে নড়বড়ে দেখাচ্ছে গোটা কাঠামোটাকেই। সম্প্রতি অ্যাটর্নি জেনারেল স্যালি ইয়েটসকে রাতারাতি বরখাস্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তিনি নাকি নেতৃত্বের নির্দেশ অমান্য করছিলেন। ট্রাম্পের উপর তিতিবিরক্ত হয়ে নিজেই সরে গিয়েছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসার। তাঁর পরে প্রচার-কর্তা হিসেবে যিনি এসেছিলেন, সেই অ্যান্থনি স্কারামুচিকেও সরতে হয় মাত্র দিন দশেকের মধ্যে।

এ সবের মধ্যে একটিই আশার আলো দেখছে সাউথ ব্লক। তা হল, মার্কিন প্রশাসনে দক্ষিণ এবং মধ্য এশিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত লিসা কার্টিসের ভূমিকা। যিনি এসেই সাফ জানিয়েছেন, পাকিস্তানকে ভবিষ্যতে অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি ভাবনা-চিন্তা করা হবে। কারণ, সেই অর্থ ইসলামাবাদ খরচ করছে হক্কানি নেটওয়ার্ক এবং পাক-তালিবানদের পুষ্ট করার কাজে। তাঁর নিয়োগে ওয়াশিংটনের পাকিস্তান-নীতির বড়সড় পরিবর্তন হতে চলেছে বলেই মনে করছেন দিল্লির কর্তারা। ওয়াশিংটনের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক বিশেষজ্ঞ লিসা এর আগে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় মদতপ্রাপ্ত সন্ত্রাস নিয়ে বেশ কিছু কড়া রিপোর্ট তৈরি করেছেন, যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে সেনেটে। দায়িত্ব নেওয়ার পরে গত ৩০ জুলাই নয়াদিল্লি এসে তিনি বৈঠকও করে গিয়েছেন বিদেশসচিব এস জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে।

তবে এটুকু রুপোলি রেখাও স্থায়ী হয় কি না, সেটাও এখন দেখতে চায় দিল্লি।

Donald Trump Subrahmanyam Jaishankar India USA এস জয়শঙ্কর ডোনাল্ড ট্রাম্প
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy