Advertisement
E-Paper

আমার লাঠিটা গণতান্ত্রিক, তোমারটা স্বৈরতান্ত্রিক

আমার হলে গণতন্ত্র, তোমার হলে স্বৈরতন্ত্র। আমার বর্ধমান অতএব গণতন্ত্র, তোমার জেএনইউ অতএব স্বৈরতন্ত্র। আমার বর্ধমানে পুলিশ ঢোকে, তোমার জেএনইউ-এ পুলিশ ঢোকে।

অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১৩:০৯
পেরেক গাঁথা এই লাঠি দিয়েই শুক্রবার রাতে তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পড়ুয়াদের। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে উদিত সিংহের তোলা ছবি।

পেরেক গাঁথা এই লাঠি দিয়েই শুক্রবার রাতে তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পড়ুয়াদের। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে উদিত সিংহের তোলা ছবি।

আমার হলে গণতন্ত্র, তোমার হলে স্বৈরতন্ত্র।
আমার বর্ধমান অতএব গণতন্ত্র, তোমার জেএনইউ অতএব স্বৈরতন্ত্র।
আমার বর্ধমানে পুলিশ ঢোকে, তোমার জেএনইউ-এ পুলিশ ঢোকে।
তবু আমার বর্ধমান, তাই গণতন্ত্র।
তোমার জেএনইউ, তাই স্বৈরতন্ত্র।
তোমার জেএনইউ ঘিরে গুন্ডাদের দাপাদাপি, আমার বর্ধমানে পেরেক সাঁটা কাঠের ঘূর্ণিচক্কর।
তুমিও পেটাও, আমিও পেটাই।
তুমি দিনে পেটাও, আমি রাতে।
আমি দিনে পেটাই, তুমি রাতে।
তুমি রাস্তায় ফেলে পেটাও, আমি ঘরের মধ্যে সেঁধিয়ে।
আমি গণতন্ত্রের নামে পেটাই, তুমি পেটাও দেশপ্রেমের নামে।
তবু আমি গণতন্ত্র, তুমি স্বৈরতন্ত্র।
পেটাচ্ছি আমরা খুব, কাঁদছে দেখ মানুষ।
ওই দেখ দিল্লির কোর্টের সামনে বেদম পিটুনি খাওয়া ওই যুবকের চোখের জল এসে মিশে যাচ্ছে আমার বর্ধমানের মেয়ের আতঙ্কের চোখে।
যে যার মতো করে চলো, লাঠি ঘোরাই আমরা।
তুমি কিছু পেরেক নাও, তা হোক স্বৈরতন্ত্রের।
আমি কিছু পেরেক নিই, নাম দিই গণতন্ত্রের।
গণতন্ত্রের নামে, দেশপ্রেমের নামে, ধর্মের নামে, অধর্মের নামে চলো, আমরা সবাই পেটাই।
এ গণতন্ত্রের পথ বড় বন্ধুর। বড় বেশি উত্থান-পতন, বড় বেশি আন্দোলন।
চলো, আমরা-ওরা সব মিলেমিশে যাই।
পেটাতে পেটাতে এই গণতন্ত্রের যাবতীয় আন্দোলনকে সমান করে দিই আমরা।
রোড রোলার চলুক, চলো, গণতন্ত্রের নামে।

newsletter anjan bandyopadhyay
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy