E-Paper

বর্ষবরণের উন্মাদনায় উপেক্ষিত কনকনে শীত, পথ-বিধিও

বছরের শেষ দিন, অর্থাৎ, বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা সদ্য শেষ হওয়া বছরের হিসাবে শীতলতম। তবে বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হয়েছে ১১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের থেকে যা ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম।

নীলোৎপল বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:১৭
ফ্রেমবন্দি: নতুন বছরের নিজস্বী। বুধবার মধ্যরাতে, পার্ক স্ট্রিটে।

ফ্রেমবন্দি: নতুন বছরের নিজস্বী। বুধবার মধ্যরাতে, পার্ক স্ট্রিটে। ছবি: সুদীপ্ত ভৌমিক।

পার্ক স্ট্রিটে মধ্যরাতে রাস্তায় নেমে আসা যে উৎসব চলেছিল ভোর পর্যন্ত, সকালের কয়েক ঘণ্টার মধ্যান্তর পেরিয়ে সেটাই আরও জমজমাট চেহারা নিল বৃহস্পতিবার, বছরের প্রথম দিনে। চিড়িয়াখানা থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, ইকো পার্ক থেকে নিক্কো পার্ক— দিনভর যেন চলল ভিড়ের প্রতিযোগিতা। মানুষের ঢল চোখে পড়ল দক্ষিণেশ্বর, কালীঘাট, কাশীপুর উদ্যানবাটীতেও। বহু এলাকায় বর্ষশেষের মতোই বর্ষবরণের জলসা চলল গভীর রাত পর্যন্ত। এর মধ্যেই শহরের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ল। তাতে অবশ্য উৎসব-যাপনে কোনও হেরফের দেখা গেল না।

বছরের শেষ দিন, অর্থাৎ, বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা সদ্য শেষ হওয়া বছরের হিসাবে শীতলতম। তবে বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হয়েছে ১১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের থেকে যা ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। আগামী কয়েক দিনে ধাপে ধাপে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলে হাওয়া অফিসের দাবি। যদিও তাতে শহরের শীতের আমেজে কোনও বাধা পড়বে না বলেই মত আবহাওয়াবিদদের।

প্রবল ঠান্ডার মধ্যেই অবশ্য বর্ষশেষের রাতে দেখা গিয়েছে, ঠিক ১২টা বাজতেই পার্ক স্ট্রিটে সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন মানুষ। দেদার বাজি ফাটছে। ভিড়ে কেউ মাঝরাস্তায় নাচছেন, কেউ উদ্‌ভ্রান্তের মতো ছুটছেন। কেউ রাস্তাতেই শুয়ে পড়েছেন। তার মধ্যেই দেদার নিজস্বী উঠছে, ভিডিয়ো কলে নিকটজনকে উদ্‌যাপনের চেহারা দেখানো চলছে। বেশ কিছু ক্ষণ পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী ভিড় সরিয়ে গাড়ি চলাচল শুরু করে। এই সময়েই পার্ক স্ট্রিট মোড়ে দেখা যায়, ধরপাকড় চালাচ্ছে পুলিশ। বিনা হেলমেটে বা এক বাইকে একাধিক জন দেখলেই আটকানো হচ্ছে। মত্ত অবস্থায় কেউ গাড়ি চালাচ্ছেন কিনা, তারও পরীক্ষা হচ্ছে ‘ব্রেথ অ্যানালাইজ়ার’ দিয়ে।

পুলিশ সূত্রের খবর, বর্ষশেষের রাতে এই ভাবেই শহরে নাকা তল্লাশি চলেছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ২৬৩ জনকে। চার কিলোগ্রাম বাজি এবং ১৬.৯৫ লিটার মদ উদ্ধার হয়েছে। ১৩০১টি ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিয়েছে ট্র্যাফিক পুলিশ। তিন জন করে সওয়ার হওয়ায় ২৩৫টি মোটরবাইক এবং স্কুটারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিনা হেলমেটে চলার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ৪৮০ জনের বিরুদ্ধে। মত্ত অবস্থায় এবং বিপজ্জনক ভাবে গাড়ি চালানোর জন্য পদক্ষেপ করা হয়েছে যথাক্রমে ১৪৯ এবং ১৭৮ জনের বিরুদ্ধে। তবে এতেও বেপরোয়া উৎসবের চিত্রটা বদলায়নি। মধ্যরাত পর্যন্ত শহরে ঘুরে দেখা গিয়েছে, একাধিক রাস্তায় বেপরোয়া মোটরবাইক, গাড়ির চলাচল। বেশ কিছু জায়গায় বিনা হেলমেটে এবং বিপজ্জনক ভাবে ছোটদের নিয়ে বাইকে সওয়ার হওয়ায় চিত্র চোখে পড়লেও কাছাকাছি কোনও পুলিশকে দেখা যায়নি। মত্ত অবস্থায় থাকা এক তরুণীকে কোনও মতে বাইকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও দেখা গিয়েছে।

পাড়ায় পাড়ায় তারস্বরে মাইক বাজিয়ে অনুষ্ঠান চললেও পুলিশকে সে ভাবে পদক্ষেপ করতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ অনেকেরই। এমনই এক জন বলেছেন, ‘থানায় ফোন করলে মানিয়ে নিতে বলা হয়েছে।’’ আর এক অভিযোগকারীর দাবি, ‘‘ভোর চারটে পর্যন্ত বক্স বেজেছে। বাড়িতে বয়স্করা রয়েছেন জানিয়েও সুরাহা মেলেনি।’’ ফলে নতুন বছরের শুরুর দিনেও সেই প্রশ্ন থেকে গিয়েছে, নতুন বছরেও বেপরোয়া বিধি-ভঙ্গের চিত্রের বদল কই?

পরিবার নিয়ে এ দিনই চিড়িয়াখানায় হাজির এক দম্পতি বলছিলেন, ‘‘অনেক নতুন পরিকল্পনার মধ্যে বড় একটা পরিকল্পনা হল, আরও একটু দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়া।’’ ইকো পার্কে বর্ষবরণের আনন্দ উপভোগ করতে হাজির কলেজপড়ুয়া তরুণী অবশ্য বললেন, ‘‘পিকনিক শেষে আবর্জনার স্তূপ হয়ে থাকা জায়গাগুলোই জানান দিচ্ছে, দিবস পালনই সার। আদতে সে ভাবে কিছুই বদলায় না।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Winter Traffic rules

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy