ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে আরও এক ধাপ এগোল ভারত। সফল ভাবে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হল র্যামজেট শক্তি সম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র। শত্রুপক্ষের বিমানে অব্যর্থ আঘাত হানতে পারে এই বিশেষ প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও-র তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র দেশের আকাশ-প্রহরাকে আরও নিশ্ছিদ্র করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
র্যামজেট হল এক বিশেষ ধরনের জেট ইঞ্জিন, যা সুপারসনিক (শব্দের চেয়ে বেশি গতি সম্পন্ন) ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহার হয়। বিশ্বের খুব কম দেশের কাছেই এই প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এই বিশেষ প্রযুক্তির ইঞ্জিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এতে কোনও জটিল টার্বাইন থাকে না। ফলে এই ইঞ্জিন ব্যবহার করা ক্ষেপণাস্ত্র খুব হালকা হয় এবং তীব্র গতিতে শত্রুপক্ষের উপর আঘান হানতে পারে।
র্যামজেট প্রযুক্তির ইঞ্জিনগুলি সামনের দিক থেকে আসা বায়ুকে তীব্র গতিতে টেনে নেয়। তার পরে সেই বায়ুই ইঞ্জিনে ‘থ্রাস্ট’ তৈরি করে। ডিআরডিও-র তৈরি এই ‘সলিড ফুয়েল ডাক্টেড র্যামজেট’ প্রযুক্তি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের গতি এবং কার্যকারিতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ও়ড়িশার চাঁদিপুর থেকে র্যামজেট শক্তির ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষামূলক ভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। পরে ডিআর়ডিও জানায়, উৎক্ষেপণ সফল হয়েছে। ডিআরডিও আরও জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে ক্ষেপণাস্ত্রটির সবক’টি মাপকাঠি নিখুঁত ভাবে কাজ করেছে বলে জানিয়েছে তারা। ফলে যে স্বল্প সংখ্যক দেশের হাতে এই প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, সেই তালিকায় জুড়ে গেল ভারতও।
অপারেশন সিঁদুর এবং ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের পরবর্তী সময়ে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি। আগামী অর্থবর্ষের জন্য দেশের প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ আরও বৃদ্ধি করেছে নয়াদিল্লি। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে প্রতিরক্ষায়। ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রকেও সুপারসনিক থেকে হাইপারসনিক (শব্দের পাঁচ গুণের চেয়ে গতিসম্পন্ন) করে তোলার পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে র্যামজেট প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রও তৈরি করে ফেলল ভারত।