নির্ধারিত সময়ের পরেও সরকারি বাসভবন ছাড়েননি দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়। শীঘ্রই যাতে সেই বাড়ি খালি করা হয়, সেই মর্মে কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রের আবাসন এবং নগরোন্নয়ন মন্ত্রককে পাঠানো চিঠিতে জরুরি ভিত্তিতে বাড়িটি খালি করানোর কথা বলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন তিনি এখনও বাড়ি ছাড়তে পারেননি, তা নিয়ে মুখ খুললেন চন্দ্রচূড়।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন-নিউজ ১৮-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সব কারণ ব্যাখ্যা করেছেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি। তিনি জানিয়েছেন, প্রাক্তন বিচারপতি সঞ্জীব খন্না তাঁকে প্রথমে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ওই বাড়িতে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন। এর পর জুন পর্যন্ত ওই বাড়িতে থাকতে দেওয়ার আর্জিও জানিয়েছিলেন তিনি।
চন্দ্রচূড় বলেন, ‘‘আমার মেয়েদের জন্য বিশেষ ধরনের বাড়ির প্রয়োজন। বড় মেয়ের বাড়িতে আইসিইউ-র মতো ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। ফলে এই ধরনের চাহিদায় বাড়ি পাওয়া সত্যিই মুশকিল। তাই আমি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করেছি যাতে আমার জন্য একটা অস্থায়ী ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।’’ প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার সেই ব্যবস্থা করে দিলেই তিনি সপরিবার সেখানে চলে যাবেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমার যে রকম প্রয়োজন, সে রকম ভাবেই ওই অস্থায়ী বাড়িটা তৈরি হচ্ছে। সেটার কাজ শেষ হলেই পরদিন আমরা চলে যাব। আমাদের গোছগাছও হয়ে গিয়েছে।’’ প্রসঙ্গত, দুই মেয়েকেই দত্তক নিয়েছেন চন্দ্রচূড়। তাঁরা দু’জনেই বিশেষ ভাবে সক্ষম।
দিল্লির ৫ নম্বর কৃষ্ণ মেনন মার্গে ‘টাইপ এইট’ বাংলোটি দেশের প্রধান বিচারপতিদের জন্য নির্দিষ্ট। তবে বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের দুই উত্তরসূরি, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বর্তমান প্রধান বিচারপতি বিআর গবই এই বাসভবনে থাকেননি। তাঁরা তাঁদের পুরনো বাংলোতেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরগ্রহণ করেছেন বিচারপতি চন্দ্রচূড়। তার পর থেকে প্রধান বিচারপতির জন্য নির্দিষ্ট ওই সরকারি বাসভবনেই রয়েছেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের তরফে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ডিসেম্বর মাসে দেশের তদানীন্তন প্রধান বিচারপতি খন্নাকে চিঠি লিখে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কৃষ্ণ মেনন মার্গের বাসভবনে থেকে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন বিচারপতি চন্দ্রচূড়। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর জন্য তুঘলক রোডের ১৪ নম্বর বাংলোটি নির্ধারিত করা হলেও দিল্লির দূষণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধের জন্য সেটিতে মেরামতির কাজ থমকে রয়েছে। আবাসন এবং নগরোন্নয়ন মন্ত্রক জানিয়েছিল, প্রতি মাসে ৫,৪৩০ টাকা লাইসেন্স ফি দিয়ে সেখানে থাকতে পারবেন চন্দ্রচূড়। তবে তার পরেও প্রধান বিচারপতি খন্নার কাছে ৩১ মে অবধি ওই বাংলোয় থেকে যাওয়ার মৌখিক আর্জি জানান প্রাক্তন বিচারপতি চন্দ্রচূড়। সেই সময়সীমাও ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গিয়েছে।