পহেলগাঁওয়ের হামলায় হারিয়েছিলেন বাবা সন্তোষ জগদালেকে। পরিবারের প্রধান রোজগেরে ছিলেন তিনি। তার পর কেটে গিয়েছে ১০ মাস। এখন সঞ্চয়ের টাকায় কোনও মতে সংসার চলে জগদালেদের। দিন কেটে যায় সরকারি দফতরের দরজায় দরজায় ঘুরে। সন্তোষের কন্যা আশাবরী জগদালের অভিযোগ, কেউ কথা রাখেননি। মহারাষ্ট্র সরকার সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা এখনও মেলেনি। মহারাষ্ট্রের এক বিজেপি নেতা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের সঙ্গে শীঘ্রই কথা বলবেন।
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় প্রাণ যায় ২৬ জনের। নিহত হন সন্তোষও। তার পরে মহারাষ্ট্র সরকার ঘোষণা করেছিল, হামলায় নিহত সে রাজ্যের ছ’জনের পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। সঙ্গে পরিবারের এক সদস্যকে দেওয়া হবে সরকারি চাকরি। আশাবরীর অভিযোগ, ১০ মাস কেটে গেলেও চাকরি পাননি তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘বাবা পরিবারের প্রধান রোজগেরে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরে মা ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁর পাশে থাকতে বেসরকারি সংস্থার চাকরি ছেড়ে দিই। এখন সঞ্চয়ের টাকায় সংসার চলছে।’’
আশাবরী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরে সরকারি দফতরের দরজায় দরজায় ঘুরেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘এখনও কিছুই এগোয়নি।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, চাকরি যখন চাইতে গিয়েছেন, তখন প্রশাসনের আধিকারিকদের ব্যবহার তাঁকে স্তম্ভিত করেছে। তাঁর কথায়, ‘‘প্রশাসনের ব্যবহারে আমি স্তম্ভিত। এক দফতর থেকে অন্য দফতরে ঘুরতে বাধ্য করেছে। রাজনীতিকেরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সময় কেনেন। কিন্তু এখনও কারও তরফে কিছু জানানো হয়নি। এমনকি, আমার আর আমার মায়ের কেউ খোঁজও নেননি।’’
আরও পড়ুন:
সন্তোষের কন্যা আশাবরী জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস এবং উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আধিকারিকেরা বলেছেন, আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।’’ রাজ্যসভার সাংসদ মেধা কুলকার্নির কাছেও বিষয়টি নিয়ে গিয়েছিলেন আশাবরী। তিনি শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলেছেন।
মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতা তথা মিডিয়া ইন-চার্জ নবনাথ বান জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ফডণবীসের সঙ্গে কথা বলবেন। তাঁর কথায়, ‘‘জগদালে-সহ সন্ত্রাস হামলায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই বিজেপির অবস্থান। আমি আশ্বাস দিচ্ছি, বিষয়টি নিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে মুখ্যমন্ত্রী এবং মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলব।’’