আবার নতুন করে উত্তপ্ত হল নয়ডা। মঙ্গলবার সকালে নয়ডার সেক্টর ৮০-তে নতুন করে অশান্তির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। বিক্ষোভকারীদের সরাতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। আহুজা কারখানার কর্মীরা মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের অনেকের দাবি, সরকার যে পরিমাণ বেতন বৃদ্ধির কথা বলেছে, তাতে তাঁরা সন্তুষ্ট নন। তাঁদের আরও দাবি, কারখানার গেটের সামনে সরকার ঘোষিত বেতনের বৃদ্ধির হারের তালিকা টাঙাতে হবে।
প্রসঙ্গত, শ্রমিক বিক্ষোভের পর সোমবারই রাজ্য সরকার শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন বাড়ানোর কথা ঘোষণা করে। সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা বৃদ্ধির কথাও জানানো হয়। গৌতমবুদ্ধ নগরের জেলাশাসক মেধা রূপম মঙ্গলবার জানিয়েছেন, সরকার ঘোষিত নয়া বেতন ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের আরও দাবি, দক্ষ এবং অদক্ষ শ্রমিকদের একই হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে। সেটা তাঁরা মানতে পারছেন না। শুধু তা-ই নয়, কর্মীদের ন’মাস কাজ করিয়ে ছাঁটাই করে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে নতুন কর্মী আনা হচ্ছে যাতে বেতন বৃদ্ধি করতে না হয়। এই দাবিগুলি নিয়েই মঙ্গলবার সকাল থেকে আবার নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নয়ডার সেক্টর ৮০।
বেতন বৃদ্ধি নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক খবরের জেরেই সোমবার শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে নয়ডা। এমনই দাবি করেছে প্রশাসন। শুধু তা-ই নয়, এই বিক্ষোভে পাকিস্তানি যোগ রয়েছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অনিল রাজভর। তিনি বলেন, ‘‘এটি সুপরিকল্পিত একটি ষড়যন্ত্র।’’ ওই অঞ্চল থেকেই সম্প্রতি পাক জঙ্গি সন্দেহে কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রীর দাবি, এই বিক্ষোভে পাক-যোগেরও সম্ভাবনা থাকতে পারে। সেই দিকটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অশান্তির ঘটনায় ৩০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শ্রমমন্ত্রীর আরও দাবি, প্রাথমিক তদন্তে এটাই উঠে এসেছে যে, রাজ্যে একটা অশান্তির আবহ তৈরি করতে শ্রমিকদের মধ্যে বেতন নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তার পরই মন্ত্রী উল্লেখ করেন, নয়ডা এবং মেরঠ থেকে সম্প্রতি চার জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যাদের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগসূত্রও মিলেছে। তাঁর কথায়, ‘‘এই পরিস্থিতিতে জঙ্গিযোগের বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে গোটা ঘটনাটি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে।’’
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার পুরো শহরকে অচল করে দিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা। রাস্তায় নেমেছিলেন ৪০-৪৫ হাজারেরও বেশি শ্রমিক। শহরের ৮০টি জায়গা জুড়ে অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল। তার মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল, সেক্টর ৬২, ফেজ় ২, সেক্টর ৬৩, সেক্টর ৮৪ এবং গ্রেটার নয়ডার বেশ কিছু জায়গা। তবে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় সেক্টর ৬২ এবং ফেজ় ২ থেকে। সেখান থেকে আগুনের গতিতে শহরের শিল্পাঞ্চল থেকে অন্য প্রান্তেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে দিল্লি যোগাযোগকারী মূল রাস্তাগুলি বিক্ষোভ প্রদর্শনকারীরা স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন। ফলে দিনভর ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, পরিস্থিতি যাতে নতুন করে উত্তপ্ত না হয়, তার জন্য নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে শহরের বেশির ভাগ জায়গা। টহল দিচ্ছে পুলিশ। তবে রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। দিল্লি-নয়ডা সংযোগকারী রাস্তাতে মঙ্গলবার যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে অম্বেডকর জয়ন্তীর জন্য কিছু রাস্তার ক্ষেত্রে নির্দেশিকা জারি করেছে ট্র্যাফিক। নয়ডা-গ্রেটার নয়ডা এক্সপ্রেসওয়ে, মহামায়া উড়ালপুল, সেক্টর ৩৭, আটা পীর চওক, রজনীগন্ধা চক এবং সেক্টর ১৫ গোলচক্করের জন্য ট্র্যাফিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।