আলোচনা এবং প্রাথমিক সমঝোতার পালা শেষ হয়েছে আগেই। আগামী অর্থবর্ষে জার্মানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ডুবোজাহাজ তৈরির বিষয়টি চূড়ান্ত হতে চলেছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে দাবি। পি ৭৫ আই (প্রজেক্ট ৭৫ ইন্ডিয়া) নামের ওই কর্মসূচি অনুযায়ী ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে কৌশলগত অংশীদারির ভিত্তিতে নৌসেনার জন্য ৬টি ডুবোজাহাজ বানাবে জার্মান সংস্থা ‘থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস’ (টিকেএমএস)।
এয়ার ইন্ডিপেনডেন্ট প্রপালশন (এআইপি) সিস্টেমে সজ্জিত ছ’টি টিকেএমএস শ্রেণির ডিজেল-ইলেকট্রিক ডুবোজাহাজ নির্মাণে আনুমানিক খরচ হবে প্রায় ৯০০ কোটি ডলায় (প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা)। এর অস্ত্রসজ্জার মধ্যে থাকবে ছয়টি ৫৩৩ এমএম টর্পেডো টিউব (হেভিওয়েট ব্ল্যাক শার্ক টর্পেডো-যুক্ত) এসএম-২৯ এক্সোসেট জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র। ২০১৮ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক যখন ছ’টি ডুবোজাহাজ নির্মাণের বিষয়টি ‘অ্যাকসেপ্ট্যান্স অফ নেসেসিটি’ তালিকাভুক্ত করেছিল, তখন আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছিল ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এর আগে জার্মানি থেকে শিশুমার শ্রেণির ৪টি ডিজ়েল-বিদ্যুৎ ডুবোজাহাজ কিনেছিল ভারতীয় নৌসেনা।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, জার্মানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ডিজ়েল-বিদ্যুৎ ডুবোজাহাজ তৈরি হবে মুম্বইয়ের ‘মাঝগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড’-এ তৈরি হবে ছ’টি ডুবোজাহাজ। প্রসঙ্গত, প্রায় দেড় দশক আগে ফরাসি সংস্থা ডিসিএনএস-এর সঙ্গে নকশা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা চুক্তির ভিত্তিতে ৬টি কলভরী গোত্রের স্করপেন ডুবোজাহাজ বানানো শুরু করেছিল ভারত। সেই প্রকল্পের নাম ছিল ‘প্রজেক্ট ৭৫’। ওই গোত্রের প্রথম স্টেলথ ডুবোজাহাজ আইএনএস কলভরীকে ২০১৫ সালের অক্টোবরে নৌসেনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। ২০২০-র নভেম্বরে এই গোত্রের শেষ ডুবোজাহাজটি ‘কমিশন’ পেয়েছিল। তার পর গত পাঁচ বছরে নতুন কোনও ডুবোজাহাজ নৌসেনার হাতে আসেনি।
বর্তমানে ভারতীয় নৌসেনায় মোট ১৪০টি জলযান রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি ডিজ়েল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন। যার ১১টি বেশ পুরনো। এ ছাড়া রয়েছে, দু’টি এসএসবিএন (পরমাণু শক্তিচালিত এবং পরমাণু অস্ত্রবাহী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রযুক্ত) ডুবোজাহাজ। রয়েছে দু’টি বিমানবাহী রণতরীও। এ ছাড়া, ভারতীয় নৌসেনায় ২৫০টিরও বেশি বিমান এবং হেলিকপ্টারও রয়েছে। আগামী এক দশকে নৌসেনার জল ও আকাশযান প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়াতে চাইছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। কিন্তু ক্ষমতাবৃদ্ধির বর্তমান গতিতে এই কাজ কঠিন বলে মনে করছেন সামরিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।