Advertisement
E-Paper

মানসে ফের গন্ডার শিকার

বছর দেড়েক পরে ফের মানসে হানা দিল চোরাশিকারির দল। গন্ডার প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ার অধীনে মানস জাতীয় উদ্যানে জন্ম নেওয়া তিন বছর বয়সী এক পুরুষ গন্ডারকে হত্যা করে খড়্গ কেটে নিয়ে গেল তারা। মানসের উদ্যান অধিকর্তা এইচ কে শর্মার মতে, এই ঘটনা মানসের সংরক্ষণ ও ‘রাইনোভিশন-২০২০’র ক্ষেত্রে এটা বিরাট আঘাত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০১৬ ০৩:০৫

বছর দেড়েক পরে ফের মানসে হানা দিল চোরাশিকারির দল। গন্ডার প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ার অধীনে মানস জাতীয় উদ্যানে জন্ম নেওয়া তিন বছর বয়সী এক পুরুষ গন্ডারকে হত্যা করে খড়্গ কেটে নিয়ে গেল তারা। মানসের উদ্যান অধিকর্তা এইচ কে শর্মার মতে, এই ঘটনা মানসের সংরক্ষণ ও ‘রাইনোভিশন-২০২০’র ক্ষেত্রে এটা বিরাট আঘাত।

কাজিরাঙা ও পবিতরা থেকে মানসে গন্ডার প্রতিস্থাপিত হওয়ার পর, ২০১১ সালে বিশ্ব ঐতিহ্য ক্ষেত্রের হারানো তকমা ফিরে পেয়েছিল মানস। কিন্তু তার পরেও মানসে গন্ডার শিকার চলতে থাকায় ইউনেসকো ও আইইউসিএন রাজ্যকে সতর্ক করে। বাড়ানো হয় নিরাপত্তা। শেষ বার, ২০১৪ সালের নভেম্বরে ভুঁইয়াপাড়া রেঞ্জে গন্ডার হত্যার ঘটনা ঘটেছিল। এবারেও শিকারিরা ওই রেঞ্জেরই কালাপানি বন শিবিরের কাছে গন্ডারটিকে হত্যা করে।

বনকর্মীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কালাপানি এলাকা থেকে গুলি চলার শব্দ আসে। সকালে তল্লাশি চালিয়ে কিছুই মেলেনি। অবশেষে গত কাল রাতে নিয়মমাফিক টহলদারির সময় বনরক্ষীরা গন্ডারটির দেহ দেখতে পায়। শর্মা জানান, কাজিরাঙা থেকে আনা একটি স্ত্রী গন্ডার এই শাবকটির জন্ম দিয়েছিল।

গত মাসেই বিদেশী প্রশিক্ষকরা মানসে এসে বন টহলের আধুনিক প্রশিক্ষণ দিয়ে গিয়েছেন। টহলদারিতে প্রথমবার মোটরবাইকের ব্যবহারও শুরু হয়েছে মানসে। কিন্তু বজ্র আঁটুনির মধ্যেও ফাঁক খুঁজে আঘাত হানল শিকারির দল। এলাকাটি ভুটান সীমান্তের কাছে। বনরক্ষীদের ধারণা, শিকারিরা সীমান্ত পেরিয়ে ভুটানে ঢুকেছে।

গত বছর আইইউসিএনের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন, উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে আগামী তিন দশকের মধ্যে ফের মানসে গন্ডার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। প্রতিস্থাপিত ও মানসে জন্ম নেওয়া গন্ডার মিলিয়ে এখানে গন্ডারের সংখ্যা ৩২। গত মাসে একটি গন্ডার শাবকের স্বাভাবিক

মৃত্যু ঘটে। গত কাল মারা হল আরও একটি গন্ডার। ফলে মানসে গন্ডারের সংখ্যা এখন ৩০।

অন্য দিকে, কাজিরাঙায় চোরাশিকারিদের সাহায্য করার অভিযোগে কার্বি আংলংয়ের ধর্মগুরু আলিসন টেরণনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, দলামারা থেকে গ্রেফতার হওয়া ওই ধর্মগুরু দীর্ঘদিন ধরে ডিমাপুর থেকে আসা শিকারি ও স্থানীয়

উগ্রপন্থীদের মধ্যে যোগসূত্র হিসেবে কাজ করছিল। সে শিকারিদের গা ঢাকা দেওয়ার বন্দোবস্ত ও পালানোর পথ করে দিত। ২১ মার্চ টুনিকাটি বনশিবিরের কাছে হওয়া গন্ডার-হত্যা ও অন্য বেশ কয়েকটি গন্ডার শিকারে জড়িত, ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ শিকারি হেমসিংহ ক্রামসার সঙ্গে টেরনের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ আরও তথ্যের জন্য তাকে জেরা করছে।

গন্ডার শিকার নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করলেও মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ আজ বলেন, ‘‘রাজ্যে সংরক্ষণ পরিকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রের কাছ থেকে আরও উন্নত অস্ত্রশস্ত্র ও পরিকাঠামো পেলে ভাল হয়। রাজ্য সরকারের চেষ্টায় বাঘ, হাতি ও গন্ডারের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy