E-Paper

তৃণমূল ও ইন্ডিয়ায় চিড়, তবু বিল নিয়ে অপেক্ষা

কেন্দ্রীয় সরকারের এক শীর্ষ ব্যক্তি বলেন, বিধানসভার মতো লোকসভা, রাজ্যসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন ধরলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদেরা বিজেপিকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে বিবাদের কারণে ডিএমকে মোদী সরকারকে ইস্যু-ভিত্তিক সমর্থন করতে পারে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ০৭:৫৫

—ফাইল চিত্র।

বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে ‘ফাটল’ তৈরি হয়েছে ঠিকই। কিন্তু তার সুযোগ নিয়ে আগামী মাস থেকে শুরু হওয়া সংসদের বাদল অধিবেশনেই লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিল বা ‘এক দেশ, এক ভোট’ বিল পাশ করানো যাবে বলে মোদী সরকার মনে করছে না। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মতে, তার জন্য আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে। হতে পারে, আগামী বছর উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের পরে এই দু’টি বিল পাশ করাতে উদ্যোগী হবে কেন্দ্র।

কেন্দ্রীয় সরকারের এক শীর্ষ ব্যক্তি বলেন, বিধানসভার মতো লোকসভা, রাজ্যসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন ধরলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদেরা বিজেপিকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে বিবাদের কারণে ডিএমকে মোদী সরকারকে ইস্যু-ভিত্তিক সমর্থন করতে পারে। কিন্তু তার পরেও লোকসভা, রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন মিলবে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত হতে হবে। তার জন্য উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা, শরদ পওয়ারের এনসিপি-র কিছু সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন পড়তে পারে। মোদী সরকারের এক মন্ত্রীর হিসাব— যদি ধরে নেওয়া যায়, লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদ ও ডিএমকে-র ২২ জন সাংসদই গরহাজির থেকে বিল পা‌শের সময়ে ভোটাভুটিতে সরকারকে সাহায্য করলেন, তাতে লোকসভার উপস্থিত সাংসদের সংখ্যা ৪৯৫ জনের কাছাকাছি নেমে আসবে। তাঁদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন পেতে হলে ৩৩০ জনের ভোট দরকার। কিন্তু এনডিএ-র ২৯২ জন সাংসদ রয়েছেন।

এর আগে মোদী সরকার লোকসভায় মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ করতে আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিরোধীরা এককাট্টা হয়ে তাতে বাধা দেওয়ায় লোকসভায় সেই সংবিধান সংশোধনী বিল খারিজ হয়ে যায়। কারণ সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করানোর মতো দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকারের ছিল না। তামিলনাড়ুর ভোটের পরে কংগ্রেস বিজয়ের টিভিকে-কে সমর্থন করায় ডিএমকে সংসদে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের থেকে আলাদা বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিজেপি মনে করছে, ডিএমকে ভবিষ্যতে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যাবে। যদিও কংগ্রেস নেতারা তা মনে করছেন না। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূলের লোকসভা ও রাজ্যসভার সংসদীয় দলে ভাঙন ধরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনে দলকে ক্ষমতায় ফিরতে হলে মহিলাদের ভোট জরুরি। তার জন্য লোকসভা নির্বাচনের আগেই মহিলাদের আসন সংরক্ষণ বিল পাশ করাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বলেছেন, মহিলাদের সংরক্ষণ বিল পাশ করানোর জন্য ফের চেষ্টা হবে। কংগ্রেসের মতে, বিজেপি মহিলাদের সংরক্ষণের নামে নিজের সুবিধা মতো লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে। ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনে জিততে একই সঙ্গে গোটা দেশে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন করাতে চাইবে তারা। প্রসঙ্গত, লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে সমস্ত রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন করানোর জন্য ‘এক দেশ, এক ভোট’ বিলটি এখন সংসদের যৌথ কমিটির কাছে রয়েছে। কমিটির মেয়াদ বাদল অধিবেশনের শেষ সপ্তাহের প্রথম দিন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ার পরে বাদল অধিবেশনে এই বিল আসার সম্ভাবনা কম।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC Lok Sabha Rajya Sabha Indian Parliament

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy