শপথগ্রহণের দু’দিনের মাথায় কর্নাটকের কংগ্রেস মন্ত্রিসভায় ডামাডোলের ইঙ্গিত। পছন্দসই দফতর না-পেয়ে ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন এক মন্ত্রী। প্রত্যাশামাফিক দফতর বণ্টন না-হওয়ায় বেসুরো আরও চার মন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে দলের অভ্যন্তরেই চাপের মুখে কর্নাটকের নতুন মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার।
শুক্রবার সকালে মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেন কর্নাটকের বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা রামলিঙ্গ রেড্ডি। রেড্ডির দাবি, তাঁকে বেঙ্গালুরু উন্নয়ন দফতরের ভার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন শিবকুমার। কিন্তু তাঁকে সেচ দফতর দেওয়া হয়। তার পরেই মন্ত্রিসভায় না-থাকার সিদ্ধান্ত নেন রেড্ডি। রেড্ডিকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ বলে অভিহিত করে শিবকুমার অবশ্য জানান, সমস্যা মিটে যাবে।
দফতর বণ্টন নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন কর্নাটকের আরও দুই মন্ত্রী কেএইচ মুনিয়াপ্পা, কেজে জর্জ। সাত বারের সাংসদ মুনিয়াপ্পা কর্নাটকের পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার মন্ত্রিসভাতেও ছিলেন। তাঁকে শিবকুমার খাদ্য এবং সরবরাহ দফতরের মন্ত্রী করেছেন। কিন্তু প্রবীণ বিধায়ক হিসাবে ‘সম্মানজনক’ কোনও দফতরের দায়িত্ব পেতে আগ্রহী তিনি। বিষয়টি তিনি রাহুল গান্ধীকেও জানিয়েছেন। বিদ্যুৎমন্ত্রী জর্জও তাঁর দফতর নিয়ে সন্তুষ্ট নন। সিদ্দারামাইয়ার জমানাতেও তিনি বিদ্যুৎমন্ত্রী ছিলেন। আর এক মন্ত্রী সতীশ জারকিহোলি পূর্ত দফতরের দায়িত্ব পেয়ে সন্তুষ্ট হলেও অন্য একটি কারণে গোসা ধরেছেন। তিনি আশা করেছিলেন মন্ত্রী করার পাশাপাশি তাঁকে কর্নাটকের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিও করা হবে। কিন্তু তা হয়নি। এই বিষয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন তিনি।
সিদ্দারামাইয়ার পদত্যাগের পর বুধবার বিকেল ৪টেয় বেঙ্গালুরুর লোকভবনের গ্লাস হাউসে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন শিবকুমার। রাজ্যপাল থাবরচাঁদ গহলৌত তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। শিবকুমারের সঙ্গে বুধবার উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন দলিত নেতা জি পরমেশ্বর। শপথ নেন ১২ জন মন্ত্রীও।
সিদ্দারামাইয়া ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ২০২৩ সালের রফাসূত্র মেনে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়লেও তিনি সক্রিয় রাজনীতিতেই থাকছেন। সেই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘‘জাতীয় রাজনীতি নয়, আমার মূল মনোযোগ রাজ্য রাজনীতিতেই থাকবে।’’ কংগ্রেস সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়ার বিনিময়ে সিদ্দারামাইয়াকে হাইকমান্ডের তরফে কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি (ঘটনাচক্রে, যে পদে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী পদে সিদ্দারামাইয়ার উত্তরসূরি ডিকে শিবকুমার) অথবা রাজ্যসভা সাংসদের পদ বেছে নিতে বলা হয়েছিল। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, সংসদের উচ্চকক্ষে যাচ্ছেন না তিনি।