‘রকস্টার’ ইমতিয়াজ় আলির পেশাজীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ছবি। দর্শকের কাছে যা মাত্র ২ ঘণ্টা ৩৯ মিনিটের যাত্রা, কলাকুশলীদের কাছে সেই যাত্রা মাসের পর মাস, কখনও বা বছরের পর বছরের। আর তাতে বার বার চড়াই-উতরাইয়ের সম্মুখীন হতে হয়। ছবি বানানোর নেপথ্যে এমনই এক অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন খোদ পরিচালকই। ‘রকস্টার’-এর সময়ে ইমতিয়াজ় দিনের পর দিন পরিশ্রম করেছেন, মানসিক চাপ নিয়েছেন এবং নিদ্রাহীন রাত কাটিয়েছেন। আর তাতেই এক ধাক্কায় ৭-১০ কেজি ওঝন ঝরে রোগা হয়ে গিয়েছিলেন। মুখেও কালো ছাপ পড়ে গিয়েছিল।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইমতিয়াজ় সেই ছবির কথা বলেন। তাঁর কথায় বোঝা যায়, এই ছবিটি তাঁর কাছে নিছক একটি সিনেমা ছিল না। কলাকুশলীরা প্রত্যেকে ছবিটির সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন। ওই ছবিটি নির্মাণের সময়ে নাকি সকলেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়তেন। আর তাতেই ধীরে ধীরে ওজন কমে যায় ইমতিয়াজ়ের। দীর্ঘ শুটিং, লোকেশন বদল, পরিকল্পনা, সম্পাদনা এবং ছবির প্রতিটি খুঁটিনাটি নিয়ে অবিরাম ভাবনা তাঁকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে ক্লান্ত করে তুলেছিল। সেই চাপের ফলেই তাঁর ওজন উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যায়।
‘রকস্টার’-এর শুটিংয়ে নায়ক-নায়িকার সঙ্গে ইমতিয়াজ় আলি। ছবি: সংগৃহীত
ওজন হ্রাস মানেই স্বাস্থ্যকর— এমন এক ধারণা রয়েছে অনেকেরই। কিন্তু সব ক্ষেত্রে তা সত্য নয়। চিকিৎসকদের মতে, সব সময়ে ওজন কমা সুখবর নয়। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া এবং দীর্ঘ ক্ষণ কাজের চাপের কারণে দ্রুত ওজন কমে গেলে তা শরীরের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। মানসিক চাপের সময়ে শরীরে কর্টিসল নামের একটি হরমোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। যা আসলে স্ট্রেস হরমোন। এর ফলে কারও খিদে কমে যায়, কারও আবার হজমের সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘ দিন ধরে এই অবস্থা চললে ওজন কমার পাশাপাশি ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং মানসিক অবসাদও দেখা দিতে পারে। ইমতিয়াজ়ের ক্ষেত্রেও এমনই ঘটেছিল।
মজার বিষয়, এই ছবির জন্য চরিত্রের প্রয়োজনে রণবীর কপূরকেও অনেকটা রোগা হতে হয়েছিল। ৭৪ কেজি থেকে প্রায় ৬৭-৬৮ কেজিতে পৌঁছোতে হয়েছিল, যাতে জর্ডান চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে যায় তাঁকে। ও দিকে, ইমতিয়াজ়ও তাঁর নায়কের সঙ্গে সঙ্গে রোগা হয়ে যান, ত্বকের বর্ণও পাল্টে যায় কেবল মাত্র মানসিক ও শারীরিক চাপের কারণে।