সকালবেলা উঠে শরীরচর্চা, মেথির জল খাওয়া, দিনভর মেপেজুপে খেয়েও রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে সামান্য ভুলেই। আর এমন ভুলই সাধারণত করে বসেন অনেকে।
চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদেরা বলছেন, সন্ধ্যা পরবর্তী কিছু অভ্যাসই এ ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারেন। অজান্তেই বাড়িয়ে দিতে পারে রক্তে শর্করার মাত্রা। সাধারণত, সন্ধ্যা হলেই ভাজাভুজি খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। কারও আবার মদ্যপানের অভ্যাসও থাকে। শরবত বা অ্যালকোহল পান করলে কিংবা বেশি রাতে নৈশাহার করলে বাড়তে পারে শর্করার মাত্রা।
১। সন্ধ্যা হলেই সোফায় বসে টিভি দেখা বা আরাম করার প্রবণতা দেখা যায়। তার সঙ্গেই চলতে থাকে ভাজাভুজি, চা-কফি। একে অলস ভাবে বসে থাকা, তার উপর ভাজাভুজি খাওয়ার প্রবণতা, চিনি যুক্ত পানীয় সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন:
২। অনেকেই রাতের খাবার খান দেরিতে। সেই খাবারের তালিকায় যদি কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা বেশি থাকে, তা হলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়বে দ্রুত। শরীরেরও নিজস্ব ঘড়ি আছে। সেই ঘড়ি অনুযায়ী চলতে হবে। নৈশাহার সন্ধ্যার মধ্যেই সেরে ফেলা জরুরি। খাওয়ার পরে অন্তত ১০-১২ মিনিট পায়চারি করলে শর্করার মাত্রা বশে থাকবে।
৩। মদ্যপানের অভ্যাসও স্বাস্থ্যকর নয়। রক্তে শর্করা বেশি থাকলে এমন অভ্যাসও ক্ষতিকর হতে পারে। মদের সঙ্গে যদি অস্বাস্থ্যকর বা উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়া হয়, তাহলে ক্ষতির সম্ভাবনা আরও বাড়ে। মদ্যপান করলে স্নায়ু শিথিল হয়ে যেতে শুরু করে।পাশাপাশি, মদ্যপানের ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকা কমেও যেতে পারে, যাকে হাইপারগ্লাইসেমিয়া বলে। আবার ঘুমের মধ্যে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিক বেড়েও যেতে পারে। দু’টিই স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।
৪। সন্ধ্যার পর থেকে ঘরে থাকার ফলে অনেকেরই নিয়ম করে জল খাওয়ার কথা মনে থাকে না। জল কম খেলে রক্তে শর্করা আরও ঘন হয়ে যায়, ফলে শর্করার মাত্রাও বেড়ে যায়। জল কম খেলেও সেই কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে।
৫। ঘুম খুব জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম হলে হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকে যা ইনসুলিনের কার্যকারিতা ঠিক রাখে। দিনের পর দিন ঘুমের ঘাটতি পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে।