ঋতুস্রাব চলাকালীন ব্যায়াম করা উচিত কি না, তা নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন অনেকেই। প্রশিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, ঋতুস্রাবের সময়ে তলপেটের প্রচণ্ড যন্ত্রণায় ভোগেন অনেক মহিলাই। ঋতুস্রাব অনিয়মিতও হয় অনেকের। এই সমস্যা দূর করতে মুঠো মুঠো ব্যথানাশক ওষুধ নয়, বরং ভরসা রাখা যেতে পারে যোগাসনে।
জরায়ুর যে অংশ থেকে ঋতুস্রাব হয়, তাকে বলা হয় সাব-মিউকাস। সাব-মিউকাস ফাইব্রয়েডসেই বেশি মহিলা আক্রান্ত হন। এর ফলে ঋতুস্রাবের সময়ে পেটে তীব্র যন্ত্রণা হয়, অত্যধিক রক্তক্ষরণ হয় এবং অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যাও শুরু হয়। তাই এমন ব্যায়াম করতে হবে, যাতে ওই অংশের পেশির স্ট্রেচিং হয়। ফলে সমস্যা দূর হয়।
কোন কোন আসন করবেন?
ধনুরাসন
ম্যাটের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। দুই হাঁটু ভাঁজ করে গোড়ালি দু’টি নিতম্বের উপর আনুন। এ বার দুই হাত দিয়ে দুই পায়ের গোড়ালি ধরুন। তার পর ধীরে ধীরে সে ভঙ্গিমাতেই ঊরু দুটি উপরের দিকে তুলুন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। পিছনের অংশ উঠে যাওয়ার পরে, শরীরের সামনের দিক অর্থাৎ মুখ থেকে বুক অবধি উপরে তুলুন। পেটের অংশ মাটিতেই থাকবে। শরীর টানটান রাখতে হবে। এই ভঙ্গিতে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে ২০-৩০ সেকেন্ড থাকুন। তার পর ধীরে ধীরে আগের ভঙ্গিতে ফিরে যান। এই আসনে ব্যথাবেদনা কমবে। পেশির জোর বাড়বে। মনও ভাল থাকবে।
আরও পড়ুন:
কন্ধরাসন
ম্যাটের উপর টানটান হয়ে শুয়ে পড়ুন। এ বার হাঁটু ভাঁজ করুন। দুই হাত থাকবে গোড়ালির কাছে। শ্বাস নিয়ে নিতে কাঁধ ও পায়ে ভর দিয়ে কোমর ও পিঠ মাটি থেকে যতটা পারবেন, তুলুন। মাথা, ঘাড় ও কাঁধ যেন মাটিতে ঠেকে থাকে। ওই ভঙ্গিতে ২০ সেকেন্ড থেকে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসুন।
মার্জারাসন
প্রথমে মাটিতে দুই পা এবং হাতের উপর ভর দিয়ে বিড়ালের মতো ভঙ্গি করুন। এর পর এক বার পিঠ ফুলিয়ে মাথা নিচু করে শ্বাস নিন, আবার পেট ঢুকিয়ে শ্বাস ছাড়ুন। এই আসন অভ্যাস করুন ৫ বার করে অন্ততপক্ষে ৫ মিনিট।