যে রকম গরম পড়েছে, তাতে এয়ার কন্ডিশনার-ও ‘ফেল’ করছে! এসি চালানোর পাঁচ-সাত মিনিট পরেও ঘর ঠান্ডা না হলে অনেকেই এমনটা বলে থাকেন। তবে দোষ এসি-র নয়। গরমের জন্য তার কাজ করার অসুবিধা হওয়ারও কথা নয়। কারণ এসি তৈরিই হয়েছে, অতিরিক্ত গরমে ঘর ঠান্ডা করার জন্য। তা হলে সমস্যা কোথায়?
সমস্যা বুঝতে না পেরে এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই এসির মেকানিককে তলব করেন। ভাবেন, এসিতে হয়তো বড় কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি হয়েছে। কিন্তু গরমে এসির মেকানিকেরও নাগাল পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। তাই এ সব ক্ষেত্রে নিজেই এক বার সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করতে পারেন। কী ভাবে?
গরমে এসি চালিয়েও ঘর ঠান্ডা না হওয়ার একটি কারণ হতে পারে এসি-র ফিল্টারের সমস্যা। ফিল্টারে ধুলোবালি জমলে ঘরের বাতাস চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হয়ে যায়। তাই ঘর ঠান্ডা করতে এসি অনেক বেশি সময় ধরে চালাতে হয়। এতে এসি-র কম্প্রেসরের উপর চাপ পড়ে। আর তার ফলে বিদ্যুতের বিল একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। নিয়মিত যদি এসি-র ফিল্টার পরিষ্কার রাখা যায়, তবে ঘর যেমন দ্রুত ঠান্ডা হবে, তেমনই বিদ্যুৎ বিলও প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কম আসতে পারে।
কী ভাবে পরিষ্কার করবেন এসি-র ফিল্টার?
১. প্রথমেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন। নিরাপত্তার জন্য এসির সুইচ বন্ধ করুন এবং মেইন পাওয়ার প্লাগটিও খুলে দিন।
২. এসি-র ইনডোর ইউনিটের দু’পাশে দু’টি লক থাকে। সেখানে হাত দিয়ে আলতো করে টানলেই সামনের প্লাস্টিকের ঢাকনা বা প্যানেলটি উপরে উঠে যাবে।
৩. প্যানেল খুললেই জালের মতো দুটি এয়ার ফিল্টার দেখতে পাবেন। এগুলিকে হালকা ওপরের দিকে ঠেলে নিচের লক থেকে মুক্ত করে সাবধানে টেনে বার করে আনুন।
৪. ফিল্টারে জমে থাকা শুকনো ধুলো ঝেড়ে ফেলুন। এরপর কলের জলের নীচে রেখে ফিল্টারটি উল্টো করে ধরে ভাল ভাবে ধুয়ে নিন। ধুলো বেশি হলে এবং জলেও যেতে না চাইলে সামান্য লিক্যুইড সোপ ও নরম স্পঞ্জ ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু কোনও ভাবেই শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করবেন না। এতে ফিল্টার ছিঁড়ে যেতে পারে।
৫. ধোয়ার পর ফিল্টারের জল ঝরিয়ে নিন। কড়া রোদে না দিয়ে ঘরের ফ্যানের হাওয়াতেই ফিল্টার দু’টি সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন। ভেজা ফিল্টার ভুলেও এসিতে লাগাবেন না।
৬. ফিল্টার শুকিয়ে গেলে আগের মতোই নিখুঁত ভাবে লকের সঙ্গে মিলিয়ে এসির ভিতরে বসিয়ে দিন এবং সামনের প্যানেলটি আটকে দিন।
ব্যস! এর পরে এসি চালু করলেই বুঝবেন ঘরের আবহাওয়া কেমন নিমেষেই শীতের দার্জিলিংয়ের মতো ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। গরমের মরসুমে প্রতি ১৫ দিনে অন্তত একবার এই সহজ কাজটি করলেই এসি থাকবে একদম নতুনের মতো কার্যকর।