প্রথমে স্থির হয়েছিল, বৈঠক হবে জুনের ৬ তারিখ। কিন্তু বিরোধী নেতারা চাইছিলেন প্রত্যেকে যেন সশরীরে হাজির থাকেন। ভিডিয়ো মাধ্যমে এক জনকেও যেন থাকতে না হয় এ ভাবেই তারিখ বাছা হোক। আপাতত স্থির হয়েছে, আগামী ৮ জুন নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের অন্তত ১৪-১৫টি দলের নেতা-সাংসদেরা ‘বিপক্ষের রাজনীতির আগামী কর্মসূচি’ স্থির করতে বৈঠকে বসবেন। আলোচনা হবে বর্তমান সমস্যাগুলি নিয়ে।
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের বিপর্যয়ের পরে এই প্রথম রাজ্যের বাইরে এবং দিল্লিতে পা রাখতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। থাকবেন দলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনও। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং কে সি বেণুগোপাল, এসপি-র অখিলেশ যাদব, রামগোপাল যাদব, আরজেডি-র তেজস্বী যাদব, জেএমএম-এর নেতা তথা ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে, এনসিপি শরদ পওয়ার (স্বাস্থ্য ঠিক থাকলে), সুপ্রিয়া সুলে বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বাম দলগুলোর পাশাপাশি থাকবে আইইউএমএল এবং অন্যান্য ছোট দল।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ডিএমকে-র তরফে জানানো হয়েছে, তারা বিজেপি-বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’র সঙ্গে রয়েছে। তবে প্রথম বৈঠকটিতে অর্থাৎ ৮ তারিখ তারা যোগ দেবে না। তামিলনাড়ু ভোটের পরে ডিএমকে-র সঙ্গ ছেড়ে কংগ্রেস বিজয়ের টিভিকে-র হাত ধরেছে। ডিএমকে-র সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এখনই তাই তাদের পক্ষে কংগ্রেসের পাশে বসে বৈঠক করা সম্ভব নয়। বিশেষত কংগ্রেসের পক্ষ থেকে চেষ্টা হচ্ছে, টিভিকে-র কোনও নেতাকে বৈঠকে আনার। আগামী বছর পঞ্জাবের ভোটে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি মুখোমুখি লড়বে। ফলে অরবিন্দ কেজরীওয়ালের পক্ষেও বৈঠকে যোগ দেওয়া সম্ভব নয়। সূত্রের খবর, তৃণমূল ডিএমকে এবং আপ-এর সঙ্গেযোগাযোগ রাখছে।
বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতি দেওয়া হবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে আলোচনার অন্যতম উপজীব্য হতে চলেছে বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থার ভূমিকা। ‘ইন্ডিয়া’র পক্ষ থেকে একত্রে দাবি তোলা হবে, বিচার বিভাগ নিজের কাজ ঠিক করে করুক। প্রসঙ্গত, এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ‘ভোট চুরির’ বিষয়টিও আসবে। আলোচনা হবে তেলের দাম বৃদ্ধি, বেকারত্ব, নিট কেলেঙ্কারি নিয়েও।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)