E-Paper

পাকিস্তান ভণ্ড: রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারত

নিরাপত্তা পরিষদের সম্মেলনের বিষয় ছিল, সশস্ত্র সংঘাত এবং নাগরিক সুরক্ষা। প্রথমেই রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিকার আহমেদ কাশ্মীরের প্রসঙ্গ তুলে সাম্প্রতিক সংঘাতের জন্য ভারতকে দায়ী করেছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৫ ০৬:১২

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশেও পাকিস্তান ক্রমাগত 'ভণ্ডামি' করে চলেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের একটি সম্মেলনে আজ এই মর্মে ইসলামাবাদকে নিশানা করলেন রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি হরিশ। তাঁর কথায়, “পাকিস্তান একটি দেশ যেখানে জঙ্গি এবং সাধারণ নাগরিককে একই চোখে দেখা হয়।”

নিরাপত্তা পরিষদের সম্মেলনের বিষয় ছিল, সশস্ত্র সংঘাত এবং নাগরিক সুরক্ষা। প্রথমেই রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিকার আহমেদ কাশ্মীরের প্রসঙ্গ তুলে সাম্প্রতিক সংঘাতের জন্য ভারতকে দায়ী করেছিলেন। জবাবে হরিশ বলেন, ‘‘কয়েকটি বিষয়ে পাকিস্তানের প্রতিনিধি যে ভিত্তিহীন অভিযোগগুলি করলেন, আমাকে তার উত্তর দিতেই হচ্ছে।দশকের পর দশক সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাকিস্তানের সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে ভারত। তার মধ্যে রয়েছে ২৬/১১-এ ভয়ঙ্কর মুম্বই হামলা থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের নিরপরাধদের বর্বরের মতো হত্যা করা এখনকার এই পহেলগাম হামলা। পাকিস্তানের জঙ্গিদের নিশানা থেকে ভারতীয় নাগরিক কারণ তাদের উদ্দেশ্য আমাদের সমৃদ্ধি, উন্নয়ন এবং মনোবলকে ভেঙে দেওয়া।”

এখানেই না থেমে কী ভাবে ভারতের হামলায় নিহত জঙ্গিদের জন্য শোক পালন করেছে পাকিস্তান, তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সম্প্রতি আমরা দেখলাম, পাকিস্তানের পুলিশ, সেনা এবং শীর্ষ সরকারি আধিকারিকেরা কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদীদের শেষকৃত্যে যোগ দিয়েছেন এবং তাঁদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এমন একটা দেশ, যেখানে সাধারণ নাগরিক এবং সন্ত্রাসবাদীর মধ্যে কোনও ফারাক নেই। তাদের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলাই উচিত নয়।” পাকিস্তানের আচরণকে ‘ভণ্ড’ বলে উল্লেখ করে ভারতের প্রতিনিধি বলেন, “এই ধরনেরআচরণের পরেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রচার করা চরম ভণ্ডামি। একটা কথা আমি স্পষ্ট করে দিতে চাই, রাষ্ট্রপুঞ্জের খাতায় স্বীকৃত সন্ত্রাসবাদীদের সুরক্ষার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সুরক্ষাকে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একজোট হতে হবে। যারা তাতে মদত দেয়, তাদের বিরুদ্ধেও একজোটহওয়া দরকার।”

পাকিস্তান মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করে হরিশ বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিনিধি অপপ্রচার করছেন। ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের জবাব দেওয়া হয়েছে অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে। কিন্তু সেই সময়েও ভারত যথেষ্ট সংযমের পরিচয় দিয়েছে। কোনও পাক নাগরিককে নিশানা করা হয়নি। কিন্তু পাকিস্তান তা করেনি। ওরা আমাদের সীমান্তবর্তী গ্রামে হামলা চালিয়েছে। এই সন্ত্রাসবাদ দমন না করলে গোটা বিশ্ব এর ফল ভুগবে।”

পহেলগাম কাণ্ডের পরেই পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল করেছে দিল্লি। নিরাপত্তা পরিষদে সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে দিল্লিকে তোপ দাগতে চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রতিনিধি। জবাবে হরিশ বলেন, “পাকিস্তানের উপর আস্থা রেখে, বিশ্বাস করে ৬৫ বছর আগে ভারত এই চুক্তি করেছিল। যার প্রস্তাবনায় বলা করা হয়েছিল, চুক্তিটি সদিচ্ছা ও বন্ধুত্বের উপর ভিত্তি করে সম্পাদিত হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানে সেই বিশ্বাস, বন্ধুত্বের মর্যাদা রাখেনি। প্রায় সাড়ে ছ’দশক ধরে পাকিস্তান এই চুক্তির অবমাননা করেছে। ভারতের বুকে ৩টি যুদ্ধ ও হাজার হাজার জঙ্গি হামলা চালিয়েছে পাক সন্ত্রাসীরা। গত চার দশক ধরে ২০ হাজারের উপর নিরীহ ভারতীয় এই সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছেন। ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁও হামলা পাকিস্তানের নৃশংসতার প্রমাণ।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

India-Pakistan United Nations India-Pakistan Tension

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy