করোনা কূটনীতির প্রশ্নে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিকে অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। আরবের এই দেশগুলির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রথম দফায় ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে শক্তি, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ ক্ষেত্রে যথেষ্ট লাভবান হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। সে দেশে বসবাসকারী প্রায় আশি লক্ষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ভাবে বিজেপি সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
গত কয়েক দিনে ‘গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিল’ (জিসিসি)-এর ছ’জন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মোদী। ওই ছ’টি দেশ- সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন এবং সৌদি আরবের নেতারা মোদীকে জানিয়েছেন, সে দেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের সুরক্ষার বিষয়টি তাঁরা দেখছেন। ভারত ইতিমধ্যেই এই দেশগুলিতে প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। আজ পনেরো জন ভারতীয় চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী পৌঁছেছেন কুয়েতে। বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই দলটি অন্তত সপ্তাহ দুয়েক কুয়েতে থাকবে। সে দেশের আবেদনে সাড়া দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। মোদীর সঙ্গে কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী সাবা আল খালিদ আল সাবা-র ফোনে কথাবার্তার সময়েই এই প্রসঙ্গটি উঠে এসেছিল।
কুয়েতের পাশাপাশি অন্য আরব রাষ্ট্রগুলিতে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাসগুলিকে চব্বিশ ঘণ্টা সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে সাউথ ব্লক। সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য দূতাবাসগুলি প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রাখছে। পণ্যবাহী বিমানে পাঠানো হয়েছে খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধ। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য, এই জিসিসিভুক্ত দেশগুলির নির্মাণক্ষেত্রে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক অপেক্ষা করছেন কবে উড়ান চালু হবে। তাঁরা ভারতে ফিরতে পারবেন। এই দেশগুলির বিমান, হোটেল, জাহাজ, শপিং মল এবং খুচরো পণ্যের দোকানগুলিতে মোট কর্মী সংখ্যার ৪০ শতাংশই ভারতীয়। যাঁদের মধ্যে অনেকেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।