Advertisement
E-Paper

কথায় কথায় মেজাজ হারিয়ে ফেলছিলেন সিয়া, অশান্তি হত কেতনের সঙ্গে! এফআইআরে আর কী কী তথ্যের উল্লেখ?

এফআইআর অনুযায়ী, সম্প্রতি কেতন তাঁর পরিবারকে সিয়ার স্বভাবের পরিবর্তনের কথা জানিয়েছিলেন। কেতন জানান, সিয়া অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ২৩:৫০
Inside details of FIR in the Ketan Agarwal death case

(বাঁ দিকে) কেতন অগ্রবাল এবং সিয়া গোয়ল (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

পুণের লোহাগড়ে ব্যবসায়ীপুত্র কেতন অগ্রবালের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া এফআইআরে তাঁর বাগ্‌দত্তা সিয়া গোয়লের ‘অস্বাভাবিক আচরণের’ কথা উল্লেখ রয়েছে। গত ১৮ জুন লোণাবলায় ঘুরতে গিয়ে পাহাড়ের কিনারা থেকে খাদে পড়ে মৃত্যু হয় কেতনের। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান ছিল, পা পিছলে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে তদন্ত যত এগিয়েছে প্রকাশ্যে এসেছে খুনের তথ্য। সেই ভিত্তিতে গত ২৩ জুন থানায় অভিযোগ করেছিলেন কেতনের বাবা বিশাল অগ্রবাল। অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া এফআইআরের নানা বিষয় প্রকাশ্যে এসেছে।

এফআইআর অনুযায়ী, সম্প্রতি কেতন তাঁর পরিবারকে সিয়ার স্বভাবের পরিবর্তনের কথা জানিয়েছিলেন। কেতন জানান, সিয়া অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। কথায় কথায় মেজাজ হারিয়ে ফেলছিলেন। সামান্য বিষয়ে তর্কাতর্কি থেকে অশান্তি বাধাতেন সিয়া, যা সন্দেহ জাগায় কেতনের মনে। যদিও কেতন সিয়ার এই অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে বেশি মাথা ঘামাননি।

কেন দু’জনের মধ্যে অশান্তি বেধেছিল? এফআইআরের বয়ান অনুযায়ী, ৪ জুন সিয়া এবং কেতনের লোহাগড় ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা বাতিল হয়। পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে সিয়ার মেজাজ সপ্তমে চড়ে থাকত। প্রায়ই লোহাগড় ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার জন্য কেতনের কাছে ‘বায়না’ করতেন সিয়া। শেষমেশ ১৭ জুন নিজের জন্মদিন উদ্‌যাপনের অজুহাত দেখিয়ে কেতনকে ফোন করেন। কেতনকে বলেন, ‘‘১৯ জুন আমার জন্মদিন। লোহাগড়ে তা পালন করতে চাই। তুমি পরিবারকে রাজি করাও।’’ প্রথমে কেতনের মা রাখি অগ্রবাল এই প্রস্তাবে রাজি ছিলেন না। পরে সিয়ার মায়ের সঙ্গে আলোচনা করে সম্মতি দেন।

এফআইআর অনুযায়ী, ১৮ জুন সকালে কেতন বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুণে-মুম্বই হাইওয়ের কিওয়াল সেতুর কাছ থেকে সিয়াকে গাড়িতে তুলে লোহাগড় যান। সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ সিয়া তাঁর হবু শাশুড়ি রাখিকে ফোন করে জানান যে, কেতন নিজস্বী তুলতে গিয়ে খাদে পড়ে গিয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। পুত্রের মৃত্যুর তিন দিন পর কেতনের বাবা এবং পরিবারের অন্য সদস্যেরা লোহাগড়ে ওই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। ঘুরে দেখে তাঁদের অনুমান, সেখান থেকে দুর্ঘটনাবশত পা পিছলে খাদে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

পরিবারের অভিযোগ, সিয়া প্রায়ই ফোনে ব্যস্ত থাকতেন। জিজ্ঞাসা করা হলে বলতেন, ‘‘বন্ধু চেতনের (চৌধরী) সঙ্গে কথা বলছি।’’ কেতনের পরিবারের সন্দেহের কথাও এফআইআরে উল্লেখ রয়েছে। তাদের সন্দেহ হয়, চেতনের সঙ্গে সিয়ার কোনও সম্পর্ক রয়েছে। প্রেমের সম্পর্ক হওয়া অস্বাভাবিক নয় বলে মনে হয়েছিল কেতনের পরিবারের। তবে কেতনের কথা ভেবে তারা কোনও কিছু বলেনি। এফআইআরে কেতনকে খুনের অভিযোগ করা হয়েছে। নিজেদের পথ থেকে সরাতে চেতন এবং সিয়া যৌথ পরিকল্পনা করে খুন করেন কেতনকে, দাবি পরিবারের।

কেতনকে খুনের মামলায় ইতিমধ্যেই নানা তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। পুলিশ সিয়া এবং চেতনকে গ্রেফতার করেছে। তবে খুনের আসল ‘মোটিভ’ কী, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছোতে পারেননি তদন্তকারীরা। তাঁদের দাবি, সিয়া-চেতনের জবানবন্দি পরস্পরবিরোধী। তদন্তকারীদেরও সন্দেহ, এই খুনের নেপথ্যে বদলা, পারিবারিক শত্রুতা বা টাকা নয়। সিয়া তদন্তকারীদের কাছে জানিয়েছেন, কেতনকে তিনি বিয়ে করতে মোটেও রাজি ছিলেন না। শুধু তা-ই নয়, তাঁর বিশ্বাস ছিল, যদি কেতনকে খুন করা যায়, তা হলে বিয়ের ব্যাপারে বেশ কিছুটা সময় হাতে পাওয়া যাবে। প্রশ্ন উঠছে, পরিবারের চাপে কি কেতনের সঙ্গে বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন সিয়া? সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সিয়ার বাবা, মা এবং দাদাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। এমনকি, তাদের আতশকাচের নীচে রয়েছেন সিয়ার মামা-মামীও। তাঁরাই এই বিয়ে ঠিক করেছিলেন বলে সূত্রের খবর। পুলিশ সিয়া এবং কেতনের বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

Pune Murder Case FIR

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy