পুত্র মানসিক ভারসাম্যহীন। শারীরিক ভাবেও অসুস্থ। তাঁকে সুস্থ করতে মরিয়া ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগের মহিলা রেশমী দেবী শরণাপন্ন হয়েছিলেন এক স্বঘোষিত তান্ত্রিকের। অভিযোগ, সেই তান্ত্রিক পরামর্শ দিয়েছিলেন, পুত্রকে সুস্থ করতে হলে কন্যাকে ‘বলিদান’ দিতে হবে। পুত্রকে সুস্থ করে রেশমী তখন তান্ত্রিকের পরামর্শ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। ১২ বছরের কন্যাকে খুনের পরিকল্পনা করেন।
হাজারিবাগের পুলিশ সুপার অঞ্জনি অঞ্জন জানিয়েছেন, এই কাজের জন্য রেশমী তাঁর প্রেমিক ভীম রামের সাহায্য নেন। প্রেমিকের কথামতো তান্ত্রিক শান্তি দেবীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা শুরু করেন রেশমী। রেশমীকে আশ্বস্ত করেন তান্ত্রিক শান্তি দেবী। তিনি দাবি করেন, পুত্রের অসুস্থতা, পরিবারের অশান্তি সব কিছু দূর করে দেবেন। কিন্তু তার জন্য মানবরক্তের প্রয়োজন। আর সেই মানবরক্ত হতে হবে কোনও পরিচিতের। অভিযোগ, তার পরই তান্ত্রিক রেশমীকে পরামর্শ দেন, পুত্রকে সুস্থ করতে চাইলে তাঁর কন্যাকে প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:
রেশমীর কাছে তান্ত্রিক দাবি করেন, তাঁর কন্যার দৈবিক শক্তি আছে। যদি কন্যাকে ‘বলিদান’ দেওয়া যায়, ওর রক্তে সুস্থ হবে পুত্র। রেশমীও রাজি হয়ে যান। তার পর নবরাত্রির আগের দিন কন্যাকে বুঝিয়ে নিয়ে যান তান্ত্রিকের কাছে। অভিযোগ, সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর কন্যার পা চেপে ধরেন রেশমী, আর গলা টিপে শ্বাসরুদ্ধ করে দেন তাঁর প্রেমিক। তার পর কিশোরীর যৌনাঙ্গে কাঠের টুকরো ঢুকিয়ে দেন তান্ত্রিক। ভীম রাম ভারী অস্ত্র দিয়ে কিশোরীর মাথা থেঁতলে দেন। তার পর সেই রক্ত ‘কালাজাদু’র কাজে লাগান তান্ত্রিক। এর পর কন্যার দেহ তুলে নিয়ে গিয়ে নিজেদের বাড়ির পিছনে বাগানে পুঁতে দেন রেশমী এবং তাঁর প্রেমিক। এই ঘটনায় তিন জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।