Advertisement
E-Paper

‘ককরোচ’-দের বিক্ষোভে হাজির তরুণ-প্রবীণেরা! যন্তরমন্তরে ওয়াংচুক, দলের প্রতিষ্ঠাতা বললেন, ‘এটা তো ট্রেলার’

শুক্রবার রাতে দিল্লিতে পৌঁছোন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিমানবন্দর থেকে তিনি সোজা চলে যান যন্তরমন্তরে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ২০:২২
Sonam Wangchuk backs Cockroach party protest at Delhi\\\\\\\\\\\\\\\'s Jantar Mantar

দিল্লির যন্তরমন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে অভিজিৎ দীপকে। ছবি: পিটিআই।

পড়ুয়া, তরুণ চাকুরিজীবীরা তো বটেই, অনেক মধ্যবয়সি, প্রবীণ নাগরিককেও দেখা গেল দিল্লির যন্তরমন্তরে। উপলক্ষ, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিবাদ কর্মসূচি। হাতে প্ল্যাকার্ড, কণ্ঠে স্লোগান। বিক্ষোভকারীদের দাবি একটাই, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। সময় বেঁধে দিয়ে নিজেদের দাবিতে সরব হয় ‘আরশোলাদের দল’। তবে বিকেল গড়ালেও সরকারের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

শুক্রবার রাতে দিল্লিতে পৌঁছোন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিমানবন্দর থেকে তিনি সোজা চলে যান যন্তরমন্তরে। নিট-ইউজি, সিবিএসই, সিইউইটি, এসএসসি-তে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল গোটা দেশ। সেই অনিয়মের প্রতিবাদে রাস্তায় নামে ‘ককরোচ’ দল। শনিবার তাদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আঁটোসাঁটো ছিল নিরাপত্তা। কর্মসূচির অনুমতি নিয়ে টালবাহানা থাকলেও শেষপর্যন্ত দিল্লি পুলিশ ছাড় দেয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি ছিল। দিল্লি বিমানবন্দরে পা দিয়েই অভিজিৎ তাঁদের বিক্ষোভের দাবি আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন।

যন্তরমন্তরের বক্তৃতায় অভিজিৎ বলেন, ‘‘এটা দীর্ঘ সংগ্রাম। সমাজমাধ্যমে ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ করেননি। বরং আমাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে, পোস্ট মুছে দেওয়ার দিকে মনযোগ দিয়েছেন।’’ কর্মসূচি শেষে তিনি এ-ও জানান, শনিবারের কর্মসূচি ছিল ‘ট্রেলার’। ভবিষ্যতে এই আন্দোলন শুধু দিল্লির রাস্তায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। ছড়িয়ে পড়বে গোটা দেশে।

আন্দোলনকারীদের অনেকের মুখেই ছিল আরশোলার মুখোশ। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে সঙ্গে ফুল, বই নিয়ে এসেছিলেন আন্দোলনকারীরা। কেউ কেউ আবার সংবিধান হাতে নেমেছিলেন প্রতিবাদে। সেই আন্দোলনকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানাতে যন্তরমন্তর গিয়েছিলেন রামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ তথা পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তবে পথে নামার আগে থেকেই তরুণ প্রজন্মের এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। এ-ও জানিয়েছিলেন, অভিজিৎকে যদি গ্রেফতার করা হয় তবে তিনি অনশন শুরু করবেন।

শুধু যন্তরমন্তর নয়, দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তের নিরাপত্তায় জোর দেওয়া হয়েছিল। দিল্লি পুলিশ ছাড়াও প্রায় ৪০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন ছিল। ব্যারিকেড বসানো হয় একাধিক জায়গায়। ধর্মেন্দ্রের বাড়ির বাইরেও নিরাপত্তা জোরদার করেছিল পুলিশ।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশের যুব সম্প্রদায়ের একাংশকে ‘আরশোলা’ এবং ‘পরজীবী’ বলে উল্লেখ করার পরে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। প্রধান বিচারপতির মতে, ওই তরুণ-তরুণীরা অন্য কোনও পেশায় স্থান না পেয়ে সাংবাদিক, সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী বা তথ্যের অধিকার কর্মী হিসাবে কাজ শুরু করেন ও সকলকে আক্রমণ করেন। প্রধান বিচারপতির ওই মন্তব্যের পর গত ১৬ মে সিজেপির পথচলা শুরু। ‘অনলাইন স্যাটায়ার মুভমেন্ট’ (ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন) হিসাবে পথ চলা শুরু করার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয় হয় সিজেপি। তারাই শনিবার পথে নামল।

Cockroach Janata Party Protest Sonam Wangchuk
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy