Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৯ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

গুজরাতে গরু মারলে যাবজ্জীবন সাজা, বিধানসভায় বিল পাশ

কয়েক দিন আগেই একটি জনসভায় গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপাণী বলেছিলেন, গরু, গঙ্গা এবং গীতা রক্ষা করতে বিজেপি দায়বদ্ধ। সেই গরুকে বাঁচাতে আইন আ

সংবাদ সংস্থা
আমদাবাদ ০১ এপ্রিল ২০১৭ ০৩:৪০

কয়েক দিন আগেই একটি জনসভায় গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপাণী বলেছিলেন, গরু, গঙ্গা এবং গীতা রক্ষা করতে বিজেপি দায়বদ্ধ। সেই গরুকে বাঁচাতে আইন আরও কঠোর করল গুজরাত।

এ বার গুজরাতে গরু মারলে শাস্তি যাবজ্জীবন জেল। শুক্রবার এই মর্মে সংশোধনী বিল পাশ হয়ে গেল গুজরাত বিধানসভায়। গোটা দেশের মধ্যে গোহত্যাকারীদের জন্য এটাই সবচেয়ে কঠিন শাস্তি। এ বছরেই ভোট গুজরাতে। সেই দিকে তাকিয়ে হিন্দুত্বের হাওয়াকে জোরালো করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

‘গুজরাত প্রাণীরক্ষা আইন ১৯৫৪’-য় বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছিল ২০১১ সালেই। সেই সংশোধনী অনুযায়ী, গরু মারলে সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল ৭ বছরের কারাদণ্ড। সংশোধনী এনে সেই শাস্তিকেই বাড়িয়ে যাবজ্জীবন করা হল। জরিমানাও ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লক্ষ টাকা করা হয়েছে।

Advertisement

নয়া আইন অনুযায়ী, গরু পাচার করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড হবে। চিরদিনের মতো বাজেয়াপ্ত করা হবে গরু এবং গোমাংস পাচারে ব্যবহৃত গাড়ি। কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে গোমাংস বিক্রি করলেও।

আরও পড়ুন: যাদব বাড়ির ছোট বউ আবার মুখ্যমন্ত্রীর পাশে, অপর্ণার গোশালায় যোগী

প্রথমে বিধানসভায় একটি বিল পেশ করে বলা হয়, গোহত্যাকারীদের ৭ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। পরে গুজরাতের স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী প্রদীপসিংহ জাডেজা সংশোধনী এনে গরু মারলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সুপারিশ করেন। বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে এই সংশোধনী-সহ পাশ হয় বিলটি। বিরোধী কংগ্রেস বিধায়কদের অনুপস্থিতিতেই বিলটি পাশ হয়। কারণ তার আগেই অন্য একটি বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াক আউট করেছিলেন তাঁরা।

তবে এই আইনের নিন্দা করেছে কংগ্রেস-সিপিএমের মতো দলগুলি। তাদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি করছে গুজরাত সরকার। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা অবশ্য বলছেন, এটা গুজরাত সরকারের ব্যাপার। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে তারা যা ভাল বুঝেছে, সেটাই করেছে।

রূপাণী কয়েক দিন ধরেই বলছিলেন, গবাদি পশুরক্ষায় আরও কঠোর আইন করা হবে। রাজনীতির কারবারিদের মতে, উত্তরপ্রদেশে বিপুল সাফল্যের পরে হিন্দুত্বের হাওয়াকে পুঁজি করে গুজরাতের ভোটে ঝাঁপাতে চাইছে বিজেপি। গোহত্যা রোধে এই নয়া আইন সেই কাজে তাঁদের অনেকটা এগিয়ে দেবে বলেই বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছেন। গুজরাত বিধানসভায় মোট আসন ১৮২টি। ইতিমধ্যেই বিজেপি আওয়াজ তুলেছে ‘উত্তরপ্রদেশে ৩২৫, গুজরাতে হবে ১৫০’।

গো-রাজনীতি গুজরাতে বিজেপিকে ১৫০টি আসন এনে দিতে পারে কি না, সেটাই দেখার।

আরও পড়ুন

Advertisement