মধ্যপ্রদেশের ইনদওরে ‘বিষাক্ত’ জল থেকে মৃত্যুকাণ্ডে সে রাজ্যের মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের ‘ঘণ্টা’ মন্তব্যের সমালোচনা করার পর বরখাস্ত হলেন এক সরকারি আধিকারিক। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
‘বিষাক্ত’ পানীয় জলে মৃত্যু নিয়ে শোরগোলের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার এক দৃশ্যমাধ্যম সাংবাদিকের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন মধ্যপ্রদেশের আবাসন এবং নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা ইনদওর-১ এর বিধায়ক কৈলাস। যে এলাকায় ‘বিষাক্ত’ পানীয় জল পান করে মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে, সেটি কৈলাসেরই বিধানসভা এলাকা। কৈলাসের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিরোধীরা প্রতিবাদে নামে। কংগ্রেসের বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নির্দেশিকা জারি করেন উজ্জয়িনীর সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) আনন্দ মালব্য। সেখানে মন্ত্রী কৈলাসের মন্তব্যকে ‘স্বৈরাচারী আচরণের প্রতীক’ বলা হয়েছে। তা ছাড়াও ওই নির্দেশিকার বিভিন্ন শব্দ এবং বাক্য নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক।
সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকায় লেখা হয়, ইনদওরে দূষণ সংক্রান্ত মামলায় কংগ্রেসের বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তার পর লেখা হয়, ‘ইনদওরে বিজেপি-পরিচালিত পুরসভা দ্বারা সরবরাহ করা দূষিত এবং নোংরা জল খাওয়ার পরে মানুষ মারা গিয়েছেন।’ আরও একটি জায়গায় লেখা হয়, ‘বিজেপি পরিচালিত পুরসভার সরবরাহ করা দূষিত এবং নোংরা জল খাওয়ার কারণে মোট ১৪ জন মারা গিয়েছেন এবং ২,৮০০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’
এখানেই শেষ নয়, এসডিএমের জারি করা নোটিসে এ-ও লেখা হয়, ‘এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে রাজ্যের মন্ত্রী আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ‘ঘন্টা’ শব্দ ব্যবহার অমানুষিক এবং স্বৈরাচারী মনোভাবকে প্রকট করেছে। এই প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটওয়ারির নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেখানে বিজেপি সাংসদ এবং বিধায়কেরা ঘেরাও হন।’
মধ্যপ্রদেশ সরকার এর পরেই মালব্যকে সাসপেন্ড করে। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কর্তব্যে অবহেলার পাশাপাশি অত্যন্ত সংবেদনশীল ঘটনা সামলাতে না-পারার কথা বলা হয়েছে। ৫ জানুয়ারি উজ্জয়িনী বিভাগের কমিশনারের কার্যালয় থেকে জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, গত ৩ জানুয়ারি একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যথাযথ খোঁজখবর না করে সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিক জানিয়েছেন, ওই নির্দেশাবলির কিছু অংশকে তুলে নিয়ে কংগ্রেসের তরফে ভাইরাল করা হয়েছে। তিনি যে তথ্য লিখেছেন, সরকারি সূত্রে পেয়েছেন। তবে কিছু ত্রুটি ছিল। তিনি ওই নোটিস বাতিল করে নতুন একটি বিজ্ঞপ্তি দেন। কিন্তু কোনও ভাবে পুরনো নোটিস ভাইরাল করা হয়েছে।
অন্য দিকে, মধ্যপ্রদেশের ইনদওরে ‘বিষাক্ত’ জল থেকে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ফাঁড়ির শৌচাগারকে দায়ী করছেন স্থানীয়েরা। অভিযোগ, ওই শৌচাগার তৈরির সময় সঠিক ভাবে সেপটিক ট্যাঙ্ক তৈরি করা হয়নি। ওই শৌচাগারের পাইপলাইনের নীচ দিয়ে গিয়েছে জলের পাইপলাইন। শৌচাগারের পাইপলাইন থেকে বর্জ্য চুঁইয়ে পানীয় জলের সঙ্গে মিশে এই বিপত্তি ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের গাফিলতির জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করা উচিত। এ নিয়ে সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি।