Advertisement
E-Paper

পশ্চিম এশিয়া নিয়ে ‘অত্যন্ত উদ্বেগে’ নয়াদিল্লি, শান্তি ফেরাতে আলোচনার ডাক! আরও দুই রাষ্ট্রপ্রধানকে ফোন মোদীর

মঙ্গলবার ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক এবং কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবা আল-খালেদ আল-হামাদ আল-মুবারক আল-সাবাহর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মোদী। সে দেশে হামলা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে খবর।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ ১৮:০৫
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। — ফাইল চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংঘাতরত দেশগুলির মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার ডাক দিল ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। মঙ্গলবার বিবৃতি প্রকাশ করে পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত যুদ্ধ থামানোর কথাও বলেছে নয়াদিল্লি। এই আবহে এ বার ওমান এবং কুয়েতের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিম এশিয়ার যে সব দেশে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে প্রত্যাঘাত করছে ইরান। সেই তালিকায় রয়েছে ওমান এবং কুয়েতও। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছে তারা।

পিটিআই জানিয়েছে, মঙ্গলবার ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক এবং কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবা আল-খালেদ আল-হামাদ আল-মুবারক আল-সাবাহর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মোদী। সে দেশে হামলা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে খবর। ওই দুই দেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। এর আগে গত দু’দিনে মোদী বাহরিনের রাজা, সৌদি আরবের যুবরাজ, জর্ডনের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লার সঙ্গে কথা বলে হামলাকে ধিক্কার জানিয়েছেন। মোদী কথা বলেছেন আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জ়ায়েদ আল নাহিয়ান, ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও।

গত শনিবার ভোরে তেহরানে হামলা চালায় ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। তাতে মৃত্যু হয় সে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের। তার পরেই ইজ়রায়েল এবং পশ্চিম এশিয়ার যে দেশগুলিতে আমেরিকার ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে প্রত্যাঘাত শুরু করে ইরান। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে জানাল, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যে সংঘাত শুরু হয়েছে তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। উভয় পক্ষকেই সংযত হওয়ার আর্জি জানিয়েছে ভারত। সেখানকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘দুর্ভাগ্যবশত রমজানের মাসেই ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে উল্লেখযোগ্য ভাবে এবং দ্রুত।’

বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এই সংঘাত শুধু যে গুরুতর হয়েছে, তা নয়, অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। হতাহত বাড়ছে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এমনকি, বাণিজ্যও থমকে গিয়েছে। ওই অঞ্চলের স্থিতাবস্থা এবং নিরাপত্তার উপর যেহেতেু ভারতের অনেক কিছু নির্ভর করে, তাই তারা ‘ভীষণ উদ্বিগ্ন’। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বসবাস করেন, কাজ করেন। তাদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেয় ভারত। তাঁদের খারাপ করতে পারে এমন কিছুকে ভারত সমর্থন করতে পারে না। ওই অঞ্চল দিয়ে ভারতের বাণিজ্য হয়। শক্তির জোগান আসে। সেখানে ব্যাঘাত ঘটলে ভারতের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলারও তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। গত কয়েক দিনের হামলায় বেশ কয়েক জন ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন। কয়েক জন নিখোঁজ বলেও জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।

এই পরিস্থিতিতে ভারত কূটনৈতিক আলোচনার ডাক দিয়েছে। বিবৃতি লেখা হয়েছে, ‘দ্রুত এই সংঘাতে ইতি টানতে আমরা সোচ্চার হচ্ছি। ইতিমধ্যে বহু মানুষের প্রাণ গিয়েছে। সেই নিয়ে আমরা দুঃখিত।’ বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, হামলা হয়েছে যে সব দেশে, সেখানে ভারতীয় দূতাবাস, উপদূতাবাস নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। নিয়মিত নির্দেশিকা জারি করা হচ্ছে। যাঁরা যুদ্ধের কারণে আটকে রয়েছেন, তাঁদের সব রকম সাহায্যের দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী, বিদেমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে ভারত। জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy