E-Paper

নয়ডায় গিগ কর্মীদের প্রতিবাদ, মহুয়ার নিশানায় জ্ঞানেশ-কন্যা

শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ সামলাতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতেই এক্স হ্যান্ডলে সরব হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:১৬
মহুয়া মৈত্র।

মহুয়া মৈত্র। — ফাইল চিত্র।

আজ সকালে নয়ডার সেক্টর ৬০-এ একটি অ্যাপ-নির্ভর গৃহ-পরিষেবা সংস্থার প্রায় ৪০ জন মহিলা গিগ কর্মী নতুন করে বিক্ষোভ দেখালেন। এই প্রতিবাদ মূলত গত কয়েক দিন ধরে শিল্পাঞ্চলে চলা বৃহত্তর শ্রমিক অসন্তোষেরই একটি অংশ। কর্মক্ষেত্রে ন্যূনতম মানবিক অধিকার, কাজের নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং ব্যক্তিগত মর্যাদার দাবিতে এই মহিলারা সরব হলে পুলিশ তাঁদের জোর করে বাসে তুলে সরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে এক পুলিশকর্তার দাবি, কর্মীদের মধ্যে কোনো বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়িয়ে পড়ার কারণেই এই জমায়েত হয়েছিল।

শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ সামলাতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতেই এক্স হ্যান্ডলে সরব হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সরাসরি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে মহুয়া লেখেন, ‘নয়ডার জেলাশাসক— পাপা ক্যাহতে হ্যায়? আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সিইসি জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গকে যে লম্বা চওড়া জ্ঞান দেন, আক্ষেপের বিষয় তিনি তাঁর সন্তানদের সেই প্রাথমিক পাঠটুকু দিতে পারেননি। তাঁর মেয়ে নয়ডার জেলাশাসক অথচ একটি ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন কী ভাবে সামলাতে হয়, তা নিয়ে তিনি পুরোপুরি দিশেহারা।’

বিক্ষোভরত মহিলা কর্মীদের অভিযোগের মূলে রয়েছে প্রতিদিন প্রায় ১১ ঘণ্টা হাড়ভাঙা খাটুনি এবং ‘অযৌক্তিক জরিমানার’ বোঝা। ওই অ্যাপে কর্মরত ২৫ বছর বয়সি নেহা দেবীর দাবি, তাঁদের দৈনিক মজুরি ৮৩৩ টাকা হওয়া সত্ত্বেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অনুপস্থিত থাকলে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হচ্ছে। তিনি বর্তমানে মাসে ২৫ হাজার টাকা আয় করলেও সোনাক্ষী থাপার দাবি, অকারণে টাকা কাটায় তা কমে ১৮ হাজারে এসে ঠেকেছে। প্রতিবাদ করলে সুপারভাইজ়ররা উল্টে কর্মীদের ‘আইডি ব্লক’ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ।

মজুরি ছাড়াও স্বাস্থ্য ও মৌলিক চাহিদার ক্ষেত্রেও এই মহিলা গিগ কর্মীরা চূড়ান্ত বৈষম্যের শিকার বলে অভিযোগ করেছেন। সোনাক্ষী জানান, এক গ্রাহকের বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে যাওয়ার জন্য মাত্র ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়, যা বর্তমান ট্রাফিক ও দূরত্বের বিচারে হেঁটে অতিক্রম করা অসম্ভব। সারাদিন পথে পথে কাজ করলেও তাঁদের জন্য নেই কোনো শৌচাগার বা পানীয় জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। এমনকি ঋতুস্রাবের মতো জরুরি শারীরিক প্রয়োজনেও অনেক সময়ে গ্রাহকেরা তাঁদের শৌচাগার ব্যবহার করতে দেন না, যা বিশেষ করে স্যানিটারি প্যাড পরিবর্তনের মতো প্রয়োজনে তাঁদের চরম বিড়ম্বনায় ফেলে দেয়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Mahua Moitra Gyanesh Kumar

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy