তামিলনাড়ু থেকে গ্রেফতার করা হল নয়ডার শ্রমিক বিক্ষোভ এবং শহরে অশান্তি ছড়ানোর ‘মূল মাথা’কে। ধৃতের নাম আদিত্য আনন্দ। তাঁকে তিরুচিরাপল্লি স্টেশন থেকে শনিবার গ্রেফতার করে গৌতমবুদ্ধ নগর থানার পুলিশ এবং স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এক লক্ষ টাকা আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন আদিত্য।
পুলিশের দাবি, নয়ডায় শ্রমিকদের প্ররোচনা দেওয়া এবং অশান্তির মাথা আদিত্য। তাঁর বিরুদ্ধে ফেজ় ২ থানায় জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। স্থানীয় আদালত আদিত্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। তার পরই শনিবার তামিলনাড়ু থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে শ্রমিক বিক্ষোভের মূলচক্রীকে।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, শ্রমিক আন্দোলনে প্ররোচনা দেওয়া, ভাঙচুর এবং হিংসার ঘটনায় প্ররোচিত করার ঘটনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন আদিত্য। হিংসার পর থেকেই তাঁর খোঁজ চালাচ্ছিল পুলিশ। প্রসঙ্গত, গত সোমবার শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে নয়ডার ফেজ় ২, সেক্টর ১ এবং সেক্টর ৮৪। সেই বিক্ষোভের আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শহরের ৮০ জায়গায়। রাস্তায় প্রায় ৪৫ হাজার শ্রমিক নামেন। গাড়িতে ভাঙচুর, আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দিল্লির সঙ্গে নয়ডার সংযোগরক্ষাকারী রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় চরম ভোগান্তির মুখ পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।
দিনভর শহরের নানা প্রান্তে অশান্তির আগুন জ্বলে। প্রসঙ্গত, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন শ্রমিকেরা। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ এবং প্রশাসন দাবি করে, শ্রমিকদের ভিড়ে মিশে গিয়ে বহিরাগতেরা হিংসা ছড়িয়েছে। রাজ্যের সীমানা হয়ে বহু বহিরাগত ঢুকে পড়েছিলেন বলে দাবি করা হয়। সেই বহিরাগতদের চিহ্নিত করে বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেন, রাজ্যের পরিবেশকে অস্থির করে তোলার জন্য এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। শ্রমমন্ত্রী অনিল রাজভর আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেন, নয়ডার অশান্তিতে পাক-যোগের সম্ভাবনা রয়েছে।