নিজের দফতরের ঠিকানা বদল করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এখন থেকে আর সাউথ ব্লকে থাকছে না ‘প্রাইম মিনিস্টার অফিস বা পিএমও’। শুক্রবার সেন্ট্রাল ভিস্তায় তিন ভবনবিশিষ্ট নতুন কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করলেন মোদী, যার পোশাকি নাম ‘সেবাতীর্থ’। উদ্বোধনের পরই নতুন অফিস থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন প্রধানমন্ত্রী। সই করলেন এমন কিছু ফাইলে, যার ফলে দেশের নারী, কৃষক এবং যুবকেরা উপকৃত হবেন বলে মত প্রশাসনিক মহলের। শুধু তা-ই নয়, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সংক্রান্ত নতুন প্রকল্পের নথিতে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী।
‘সেবাতীর্থ’ নামাঙ্কিত নতুন কমপ্লেক্সে পিএমও ছাড়া আরও দুই ভবন থাকবে। সেই দুই ভবনে থাকবে ক্যাবিনেট বা মন্ত্রিসভার সচিবালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের দফতর। পাশাপাশি, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ‘কর্তব্য-১’ এবং ‘কর্তব্য-২’ নামে দুই ভবনেরও। সেখানে কেন্দ্রীয় অর্থ, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, কর্পোরেট, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন ও বিচার, তথ্য ও সম্প্রচার, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ, সার ও রসায়ন এবং আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলি স্থানান্তরিত করা হবে।
‘সেবাতীর্থ’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি: সমাজমাধ্যম।
উদ্বোধনের পরই ‘সেবাতীর্থ’ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন মোদী। ‘প্রধানমন্ত্রী রাহাত প্রকল্প’-এর সূচনা করলেন তিনি। কী এই প্রকল্প? নতুন প্রকল্পের আওতায় উপকৃত হবেন দুর্ঘটনার কবলে পড়া নাগরিকেরা। এই প্রকল্পে দুর্ঘটনায় আহতেরা দেড় লক্ষ টাকা ক্যাশলেস চিকিৎসা পাবেন। এ ছাড়াও, কেন্দ্রের ‘লাখপতি দিদি’ প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা আরও কিছুটা বাড়িয়ে দিল সরকার। ২০২৩ সালে মোদী সরকার এই প্রকল্পের সূচনা করে। নারীদের ক্ষমতায়নে জোর দিতে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। মহিলারা যাতে স্বনির্ভর হতে পারেন, তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। এই প্রকল্পের আওতায় মহিলাদের বিনাসুদে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়। প্রথমে ঠিক ছিল, ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে তিন কোটি মহিলাকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। তবে সেই লক্ষ্যসীমা দ্বিগুণ করলেন প্রধানমন্ত্রী। ২০২৯ সালে মার্চের মধ্যে ছ’কোটি মহিলাকে সুবিধা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
পাশাপাশি, কৃষকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন মোদী। প্রধানমন্ত্রী কৃষি অবকাঠামো তহবিলের ব্যয় এক লক্ষ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হল। সেই সংক্রান্ত নথিতে সই করেন মোদী। এ ছাড়াও, নতুন প্রজন্ম বা যাঁরা স্টার্টআপ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছেন, তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে কেন্দ্রীয় সরকার কিছু সুযোগ সুবিধা দেয়। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী এই সংক্রান্ত প্রকল্পে ১০ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দিলেন।