নয়া নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে দিল্লি-সহ দেশ জুড়ে প্রতিবাদের মধ্যেই গত ছ’মাসে সরকারের কাজের পর্যালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদী।
আগেই ঠিক ছিল, ২১ ডিসেম্বর থেকে টানা তিন শনিবার সমস্ত মন্ত্রীর গত ছ’মাসের কাজের খতিয়ান নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে আগামী এক বছরের পরিকল্পনাও তুলে ধরতে হবে প্রত্যেক মন্ত্রককে। সরকারি সূত্রের খবর, শনিবার দিনভর বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রকের তরফে গত ছ’মাসে যে সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ও তার ফল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বৈঠকে গোটা মন্ত্রী পরিষদও হাজির ছিল।
প্রধানমন্ত্রী মোদী আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতি তৈরির লক্ষ্য নিয়েছেন। সে দিকে তাকিয়ে কোন মন্ত্রক কী পরিকল্পনা নিচ্ছে, তা-ও অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত ১২টি মন্ত্রক প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরবে বলে ঠিক করেছে। রেল, শিল্প-বাণিজ্য,
বিমান, গ্রামোন্নয়নের মতো বিভিন্ন মন্ত্রক নিজেদের পরিকল্পনা চূড়ান্ত
করে ফেলেছে।
সরকারের একটি সূত্রের বক্তব্য, অর্থনীতির বর্তমান ঝিমুনির কথা মাথায় রেখে কৃষি, গ্রামোন্নয়ন ও সামাজিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি
নজর দেওয়া হচ্ছে। কারণ গ্রামের মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়েছে বলেই সার্বিক ভাবে বাজারে কেনাকাটা কমে গিয়েছে বলে অর্থনীতিবিদদের মত।
সাধারণত প্রতি মাসেই এক বার মন্ত্রী পরিষদের বৈঠক হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আজ থেকে শুরু করে পরপর তিনটি শনিবার সরকারের কাজের পর্যালোচনা হবে বলে সরকারি সূত্রের খবর। ১ ফেব্রুয়ারির বাজেটের রূপরেখাও কার্যত এই পর্যালোচনা বৈঠকেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলে অর্থ মন্ত্রকের কর্তাদের মত।
সরকারি কর্তা তথা বিজেপি নেতারা মনে করছেন, মন্ত্রীদের কাজের পর্যালোচনার নিরিখে মন্ত্রিসভা ও বিজেপির সংগঠনে রদবদলের সিদ্ধান্তও হবে। বাজেটের পরে মন্ত্রিসভার রদবদল হতে পারে বলে জল্পনা চলছে। জেডিইউ, উত্তরপ্রদেশের আপনা দল, এডিএমকে মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে পারে।