উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসীর প্রথম মহিলা অটোচালক খুনে নয়া তথ্য উঠে এল পুলিশের হাতে। ইতিমধ্যেই এই হত্যার ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ধৃতেরা হলেন শিবম এবং মনোজ। মূল অভিযুক্ত তথা মহিলা অটোচালক অনিতা চৌধরির প্রাক্তন স্বামী মুকেশ ঝা-কে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করা হয়। মনোজকে ‘এনকাউন্টার’ করে ধরেছে পুলিশ।
গত ৪ জানুয়ারি অটোচালক অনিতা খুন হন। নওয়াবাদ থানা এলাকায় শকুনওয়া ধুকওয়ান কলোনির কাছে অনিতাকে গুলি করা হয়। সেই সময় তিনি অটো নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। স্থানীয়েরা অনিতাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। কিছুটা দূরে তাঁর অটোটি উল্টে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়েরাই পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে অনিতাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মনোজ, শিবম এবং মুকেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন অনিতার স্বামী। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তিন জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে অনিতার প্রাক্তন স্বামী পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। শুক্রবার বেতোয়া নদীর উপর নটঘাট সেতুর কাছে মুকেশের গাড়ি দেখতে পায় পুলিশ। তার পরই ওই এলাকায় তল্লাশি শুরু হয়। সেই তল্লাশির সময় মুকেশের হদিস পান পুলিশকর্মীরা।
তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মুকেশকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। কিন্তু পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করেন তিনি। পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও। পায়ে গুলি লাগে মুকেশের। তার পরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অনিতাকে বিবাহবার্ষিকীর দিনই খুন করার পরিকল্পনা করেছিলেন মুকেশ। পুলিশ সুপার প্রীতি সিংহ জানিয়েছেন, মুকেশ এবং অনিতার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক ছয়-সাত বছর চলার পর বিয়ে করেন দু’জনে। কিন্তু সেই বিয়ে টেকেনি। মুকেশকে ছেড়ে চলে যান অনিতা। তার পর আবার নতুন করে সংসারও পাতেন তিনি। একটি অটো কিনেছিলেন অনিতা। ঝাঁসীর প্রথম মহিলা অটোচালক তিনি। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, দু‘বছর আগে ৪ জানুয়ারিতে মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেছিলেন অনিতা এবং মুকেশ। বিচ্ছেদের পর সেই ৪ জানুয়ারিকেই অনিতার খুনের জন্য বেছে নিয়েছিলেন মূল অভিযুক্ত। পরিকল্পনা মতো অনিতার যাতায়াতের পথে অপেক্ষা করছিলেন মুকেশ। ৪ জানুয়ারি রাতে তাঁকে গুলি করে খুন করেন বলে অভিযোগ।