E-Paper

কৃষক-অসন্তোষের দায় রাজ্যকে ঠেললেন নির্মলা

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে পড়ে সে দেশের সঙ্গে আপস করে চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, এমনই অভিযোগ তুলে সরব বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, ওই চুক্তির ফলে সব থেকে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে দেশের কৃষকদের।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৫
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। —ফাইল চিত্র।

আমেরিকার সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিতে দেশের কৃষক সমাজ হতাশ বলে বিরোধীরা অভিযোগ তুললেও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের পাল্টা বক্তব্য, কৃষি রাজ্যের বিষয়। তাই কোনও রাজ্যের কৃষকেরা যদি অখুশি থাকেন, তা হলে সেই দায় সংশ্লিষ্ট রাজ্যের।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে পড়ে সে দেশের সঙ্গে আপস করে চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, এমনই অভিযোগ তুলে সরব বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, ওই চুক্তির ফলে সব থেকে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে দেশের কৃষকদের। আজ সংসদে বাজেট-বিতর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের কটাক্ষ, ‘‘কে বলেছে কৃষকেরা খুশি নন? অবশ্যই টেক্সাসের কৃষকেরা খুশি, তবে তামিলনাড়ুর কৃষকেরা নন। কেন্টাকির কৃষকেরা খুশি, কর্নাটকের কৃষকেরা নন। উইসকনসিনের কৃষকেরা খুশি, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এর কৃষকেরা নন।’’ জবাবে নির্মলা বলেন, ‘‘কৃষকেরা অখুশি বলে যে রাজ্যগুলির নাম করা হয়েছে, সেগুলি সবই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের দল শাসিত। কৃষকদের খুশি রাখার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। কারণ কৃষি রাজ্যের বিষয়। কৃষি খাতে কেন্দ্র বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিলেও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্য তা প্রয়োগ করে না।’’

বাজেট বিতর্কে রাজ্যের অসহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে সরব হন বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘‘কোনও ক্ষেত্রেই জমি পাওয়া যায় না। ফলে কলাইকুন্ডা, মালদহে বিমানবন্দর সম্প্রসারণ থমকে। ঘোজাডাঙা, হিলিতে সুসংহত চেক পোস্ট, আলিপুরদুয়ার, কার্শিয়াংয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সড়ক সম্প্রসারণ, ৪৩টি রেল ও তিনটি মেট্রো প্রকল্প, সব কাজ থমকে রয়েছে।’’ কেবল তা-ই নয়, রাজ্যে যাবতীয় কেন্দ্রীয় প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা, প্রধানমন্ত্রী জনমন, বিদ্যাঞ্জলি, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর— সব প্রকল্পই থমকে রয়েছে বলে শমীক অভিযোগ তোলেন। নির্মলাও বলেন, ‘‘অসমে চালু হলেও পশ্চিমবঙ্গে চা শ্রমিক প্রোৎসাহন প্রকল্প চালু করার প্রশ্নে উদ্যোগীই হয়নি রাজ্য সরকার।’’

আজ বিতর্কে ডেরেক-সহ তৃণমূলের সাংসদেরা কেন্দ্রের ঘরে রাজ্যের ন্যায্য প্রাপ্য প্রায় দু’লক্ষ কোটি টাকা পড়ে রয়েছে বলে সরব হন। ডেরেক বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় প্রাপ্য তো বন্ধ, উল্টে পশ্চিমবঙ্গের রেল প্রকল্প খাতে নামমাত্র বরাদ্দ করা হচ্ছে। ইউপিএ-র সময়ের তুলনায় এখন রেল বাজেট প্রায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মধ্যে বিজেপি শাসিত গুজরাতের বরাদ্দ বেড়েছে ২৭ গুণ, দিল্লির ২৮ গুণ, উত্তরপ্রদেশের ১৮ গুণ, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের বেড়েছে মাত্র ৩ গুণ।’’ চলতি বাজেটে রাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প ঘোষিত হয়নি বলেও সরব হন বিরোধীরা। শমীকের পাল্টা জবাব, ‘‘শিলিগুড়ি তা হলে কোন রাজ্যে? ভোটের পরেই ওই শিলিগুড়ি-বারাণসী বুলেট ট্রেনে চেপেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাবা বিশ্বনাথের শহরে গিয়ে বাকি জীবন কাটাবেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Nirmala Sitharaman Central Government West Bengal government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy