E-Paper

রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণরক্ষায় একা সৌগত, তৃণমূলে জোর চর্চা

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ ০৯:২৫
তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়।

তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। ফাইল চিত্র।

নয়াদিল্লি, ১৬ মার্চ: দলের আর কেউ না গেলেও আজ রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে প্রাতরাশে যোগ দিলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। দলের প্রবীণ সাংসদের এই আচরণে তৃণমূলের অন্দরেই জোর জল্পনা ছড়িয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য বিবৃতি দিয়ে দাবি করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রাতরাশে যোগ দিয়ে সৌগত রায় দলবিরোধী কোনও কাজ করেননি। তবে এমন একটা সময়ে এই আমন্ত্রণে একলাই হাজির থাকলেন সৌগত, যখন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। সৌগত জানান, “আমাকে কেউ নিষেধ করেননি। আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানতাম না। আমন্ত্রণ পেয়েছি, চলে গিয়েছি।”

অন্যান্য বছরের মতোই এ বছর রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে তৃণমূল সাংসদদের রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রাতরাশে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, দলের মুসলিম সাংসদরা এই সময় রোজা রাখেন। তাঁরা যোগ দিতে পারবেন না। দ্রৌপদী মুর্মুকে এ বিষয়ে চিঠিও লেখেন তৃণমূল সাংসদ নাদিমুল হক। পরে একই প্রশ্ন তুলে রাষ্ট্রপতিকে লেখেন সাকেত গোখলেও। গত কাল দলের মুসলিম সাংসদদের কাছে নতুন সময় দিয়ে (২৪ মার্চ) ফের আমন্ত্রণপত্র এসেছে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে।

আজ সৌগত একলা রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসায় কেন তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গেলেন, তাই নিয়ে কথাবার্তা শুরু হয়। লোকসভায় তৃণমূলের উপনেতা শতাব্দী রায় বলেন, ‘‘দিদি বুঝবেন। সৌগতদা যে কাজগুলি করেন, সেগুলি দলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে কতটা মেলে, জানি না। অবশ্য খেতে তিনি চিরকালই ভালবাসেন!’ বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গাও কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘সৌগত রায় মনে হয় দলের কথা মানছেন না।’’

তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাতরাশে যোগ দিয়ে কোনও দল বিরোধী কাজ করেননি সৌগত রায়। তৃণমূল সংসদীয় দলের দাবি, রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ মেনে যাওয়া হবে কি না, তা প্রত্যেক সংসদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে সাংসদদের কোনও নির্দেশ বা হুইপ দেওয়া হয়নি। দলের লোকসভা এবং রাজ্যসভার দু’টি আলাদা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে। কোনও গ্রুপেই এ বিষয়ে কোনও ‘নির্দেশ’ দেওয়া হয়নি। তবে সৌগত রায় ছাড়া দলের অন্য কোনও সাংসদ রাষ্ট্রপতির প্রাতরাশের আমন্ত্রণে যাননি, এটাও ঠিক।

প্রসঙ্গত পশ্চিমবঙ্গে জনজাতিদের সমস্যা এবং মুখ্যমন্ত্রীর না যাওয়া নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ক্ষোভ প্রকাশ করার পর থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর স্নায়ুর লড়াই গড়াতে শুরু করে। শুরু হয়েছে চিঠি এবং পাল্টা চিঠির রাজনীতি। গত সপ্তাহে দেখা করতে চাইলে সময়াভাব দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবন তৃণমূল নেতৃত্বকে ফিরিয়ে দেয়। ফের রাষ্ট্রপতি ভবনকে পাল্টা চিঠি দেন দলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁর অনুরোধ, আগামী সপ্তাহে যে কোনও দিন যদি রাষ্ট্রপতি তৃণমূলের প্রতিনিধিদলকে সময় দেন। আজ পর্যন্ত তার উত্তর না আসায় ফের তৃণমূল সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবনকে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC Saugata Roy

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy