E-Paper

যোগীর পুরনো কথাকে অস্ত্র করছেন বিরোধীরা

যোগী বলেছিলেন, মহিলা সংরক্ষণ সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিজেপির উচিত দলের নির্বাচিত সাংসদদের মতামত শোনা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:১৯
যোগী আদিত্যনাথ।

যোগী আদিত্যনাথ। — ফাইল চিত্র।

মনমোহন সিংহের সরকার যখন সংসদে মহিলা সংরক্ষণ আইন পাশ করানোর চেষ্টা করেছিল, সে সময় বিজেপি আইনে সমর্থন করেছিল। কিন্তু বিজেপির মধ্যে থেকেই মহিলা সংরক্ষণে ঘোরআপত্তি তুলেছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। সে সময় তিনি গোরক্ষপুরের বিজেপি সাংসদ। ‘সংসদে দু’এক জন ছাড়া কেউ এর পক্ষে নয়। কেন বিজেপি কংগ্রেসের পাপ নিজের ঘাড়ে নিচ্ছে,’ এই প্রশ্ন তুলে যোগী বলেছিলেন, মহিলা সংরক্ষণ সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিজেপির উচিত দলের নির্বাচিত সাংসদদের মতামত শোনা।

লোকসভায় মোদী সরকারের সংবিধান সংশোধনী বিল খারিজের পরে বিজেপি গোটা বিরোধী শিবিরকে ‘মহিলা বিরোধী’ বলে প্রচারে নেমেছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শনিবারই উত্তরবঙ্গের মাথাভাঙায় প্রচারে গিয়ে অভিযোগ তুলেছেন, কংগ্রেস-তৃণমূল-সমাজবাদী পার্টি-বামপন্থীরা মহিলাদের অপমান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘নরেন্দ্র মোদী ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল এনেছিলেন। কিন্তু বিরোধীরা সেই বিল পাশকরতে দেননি।’’

বিরোধী শিবির পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে, ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে কেন? আগামী বছর ২০২৭-এ উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন থেকেই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর হোক। বিরোধীদের দাবি, তাঁরা মহিলা সংরক্ষণের বিরোধিতা করছেন না। শুধু মোদী সরকারের ইচ্ছে মতো লোকসভার আসন বৃদ্ধি, রাজনৈতিক ফায়দা দেখে সীমানা নির্ধারণের বিরোধিতা করছেন।

তেলঙ্গানার কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি শনিবার দিল্লিতে বলেন, ‘‘মোদী সরকার সংবিধান সংশোধনী বিল এনে নিজের ইচ্ছে মতো লোকসভা, বিধানসভার আসন বৃদ্ধি, সীমা নির্ধারণ করতে চাইছিল। মহিলা সংরক্ষণ ছিল মুখোশ। বিরোধীরা আসন পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতা করেছে। মহিলা সংরক্ষণের নয়। ২০২৩-এই মহিলা সংরক্ষণ আইন পাশ হয়ে গিয়েছে। আসন পুনর্বিন্যাস না করে মোদী সরকার মহিলা সংরক্ষণ এখনই কার্যকর করতে বিল নিয়ে আসুক। আগামী বছর উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনেই এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করে ভোট হোক।’’

শুক্রবার লোকসভার সংবিধান সংশোধনী বিল ভোটাভুটিতে খারিজ হয়ে যাওয়ার পরেই লখনউয়ে অখিলেশ যাদবের বাড়ির সামনে বিজেপির মহিলা কর্মীরা বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। কারণ অখিলেশের সমাজবাদী পার্টিও বিলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল। সমাজবাদী পার্টিকে মহিলা-বিরোধী বলে দাগিয়ে দিতে যোগী সরকার বিধানসভার অধিবেশন ডেকে নিন্দা প্রস্তাব আনতে চলেছে। যোগীরই মহিলা সংরক্ষণের বিরোধিতা করে পুরনো বক্তব্য তুলে ধরে অখিলেশ বলেছেন, ‘‘যে বিজেপির ভাবনাই প্রাচীনপন্থী, তারা কী ভাবে মহিলাদের মসিহা হবে? যাঁরা নিজের পরিবারকেই স্বীকার করেন না, তাঁরা পরিবারের ধারক মহিলাদেরও স্বীকার করেন না। বিজেপির নেতারা আগেও মনে করতেন, নারীদের স্বাধীনতা দেওয়া যায় না। বিজেপি এখনও মনে করে, মহিলাদের বাড়ির কাজেই ব্যস্ত থাকা উচিত। বিজেপি বিদায় হলে মহিলারা নিশ্চিন্তে শ্বাসনিতে পারবেন।’’

বিজেপির শীর্ষ নেতারা যুক্তি দিয়েছেন, মহিলাদের সংরক্ষণ দিতে হলে আসন পুনর্বিন্যাস করতে হবে। লোকসভা, বিধানসভার আসন সংখ্যা বাড়াতে হবে। না হলে পুরুষ রাজনীতিকদেরই নিজের লোকসভা, বিধানসভা আসন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা বলেন, ‘‘আসলে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ বলে পুরুষদের জন্য আসন ধরে রেখে তার পরে মহিলাদের জন্য আসন তৈরির পরিকল্পনা হচ্ছে। আমি ২০২২-এ উত্তরপ্রদেশে ৪০ শতাংশ আসনে মহিলাদের টিকিট দিয়েছিলাম।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP Women Reservation Bill

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy