যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে দেখা হওয়া নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী। তার মধ্যেই তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষের মুখে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর তরফে এমন জন্মদিনের শুভেচ্ছা প্রথামাফিক হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপকে পুরীর পাশে দাঁড়ানো বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, বিরোধীরা পুরীর ইস্তফাদাবি করেছেন।
আমেরিকার আইন দফতরের তরফে প্রকাশিত নথিতে দেখা যাচ্ছে, ২০১৪ থেকে ২০১৫-এর মধ্যে পুরীর সঙ্গে এপস্টিনের ই-মেল চালাচালি হয়েছিল। ২০১৩ পর্যন্ত রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে ‘ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট’-এ কাজ করতেন। এপস্টিনের সঙ্গে তিন-চার বার দেখা করার কথা স্বীকার করে নেন পুরীও। কিন্তু তিনি জানান, ‘ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট’-এর একটি কমিশনের অঙ্গ হিসেবে তিনি এপস্টিনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে এপস্টিন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরেও এ নিয়ে তাঁর মনে সংশয় ছিল বলে জানিয়েছেন পুরী। পুরীর ইস্তফা চেয়ে সংসদে সরব হয়েছিল কংগ্রেস। পাশাপাশি এপস্টিন সংক্রান্ত ফাইলে একাধিক বার দেখা গিয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামও।
আজ হরদীপের জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা বার্তায় তিনি বলেন, ‘‘ভারতকে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রে স্বনির্ভর করার বিষয়ে পুরীর উদ্যোগ প্রশংসনীয়।’’ জবাবে পুরী বলেন, ‘‘আপনার নেতৃত্বে দেশের গৌরবময় পরিবর্তন ঘটছে। বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এই সফরের অঙ্গ হতে পারাটাগর্বের বিষয়।’’
এর পরেই মোদীকে নিশানা করেন বিরোধীরা। কংগ্রেস মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনাতের কটাক্ষ, ‘‘এপস্টিনের বন্ধুদের মধ্যে উষ্ণ কথোপকথন।’’তৃণমূল মুখপাত্র মহুয়া মৈত্রের কথায়, ‘‘হরদীপ সিংহ পুরী ভারতকে কেবল লজ্জায় ফেলেছেন। ভারতের শক্তিসম্পদ নীতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ঠিক করেন। অহঙ্কারী হরদীপ সিংহ পুরী নন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)