পঞ্চায়েত ও পুরসভার নির্বাচনে ভাল ফলের পরে এ বার কেরলে চাকা ঘোরানোর স্বপ্ন দেখছে কংগ্রেস। পাঁচ বছর অন্তর সরকার বদলানোর প্রথা ভেঙে দক্ষিণী ওই রাজ্যে পরপর দু’বার ক্ষমতায় এসেছে পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বে বাম সরকার। কিন্তু বিধানসভা ভোটের একেবারে দোরগোড়ায় এসে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে দলেরই অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা! খ্রিস্টান ভোটে ভাঙনের পাশাপাশি অন্তত চারটি জেলায় ফল ভাল হবে না বলে ইঙ্গিত রয়েছে সেই রিপোর্টে।
দক্ষিণের আর এক রাজ্য কর্নাটকে দলের জয়ের পর থেকে কংগ্রেস নেতৃত্বের ভরসার পাত্র হয়ে উঠেছেন ভোট-কুশলী সুনীল কানুগোলু। কেরলেও কংগ্রেসের নির্বাচনী রণকৌশল ও প্রার্থী বাছাইয়ে মুখ্য উপদেষ্টা তিনি। এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেণুগোপাল এখন বিশেষ নজর দিচ্ছেন নিজের রাজ্য কেরলে এবং তিনিও নির্ভর করছেন কানুগোলুর প্রস্তাব-পরামর্শের উপরে। কংগ্রেস সূত্রের খবর, ভোটমুখী কেরলে ১৪০টি বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক সমীক্ষা করে দলীয় নেতৃত্বের কাছে রিপোর্ট দিয়েছেন কানুগোলু। সেখানে আলপ্পুঝা, ত্রিশূর, তিরুঅনন্তপুরম ও পালাক্কাড— মূলত মধ্য ও দক্ষিণ কেরলের এই চার জেলায় কংগ্রেসের পক্ষে ফল ভাল না হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। এর আগে বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশনের নিজের উদ্যোগে একটি সংস্থাকে দিয়ে করানো সমীক্ষাতেও একই রকম ইঙ্গিত ধরা পড়েছিল।
কানুগোলুর সমীক্ষার রিপোর্টে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, রাজ্যে মুসলিম ভোট কংগ্রেসের সঙ্গে ভাল রকমই থাকার কথা। কিন্তু খ্রিস্টান ভোটের ক্ষেত্রে সে কথা বলা যাচ্ছে না। খ্রিস্টানদের মধ্যে বামেদের প্রতি কিছু সমর্থনের পাশাপাশি বিজেপির প্রভাব বাড়ছে। ফলে, খ্রিস্টান ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা। ওই সমীক্ষার ইঙ্গিত, সিপিএমের নেতৃত্বাধীন এলডিএফ এবং কংগ্রেসের ইউডিএফ, দুই ফ্রন্টই ৪০%-এর বেশি ভোট পেতে পারে। বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ-র ঝুলিতে যেতে পারে প্রায় ১৫% ভোট। বস্তুত, এ বার ভোট ভাগাভাগির জেরে বেশ কিছু আসনেই ফলাফল জটিল হতে পারে বলে সব শিবিরেরই অন্দরের মত।
যে চার জেলায় কংগ্রেসের ফল নিয়ে সমীক্ষায় আশানুরূপ ছবি ধরা পড়েনি, তার মধ্যে আছে বেণুগোপালের নিজের জেলা আলপ্পুঝা। সেখান থেকেই তিনি লোকসভার সাংসদ। আলপ্পুঝায় ৯টি বিধানসভা আসনের মধ্যে কংগ্রেসেরক তরফে একমাত্র হরিপাডে ২০২১ সালে জয়ী হয়েছিলেন রমেশ চেন্নিতালা। তাঁকে এ বার প্রচার কমিটির প্রধান করেছে এআইসিসি। তিরুঅনন্তপুরমে ১৪টি আসনের মধ্যে কংগ্রেসের হাতে আছে একটি। আবার মধ্যাঞ্চলের পাশাপাশি দুই জেলা ত্রিশূর ও পালাক্কাডে যথাক্রমে ১৩টি ও ১২টি কেন্দ্রের মধ্যে একটি করে গত বার জিতেছিল কংগ্রেস। পাল্লাক্কাডে ইউডিএফ শরিক মুসলিম লিগ পেয়েছিল একটি। চার জেলার মধ্যেই একমাত্র পালাক্কাডেই সমীক্ষার ইঙ্গিতের সঙ্গে রাজ্য কংগ্রেসের নিজস্ব মূল্যায়ন মিলছে না। কংগ্রেস নেতৃত্বের আশা, ইউডিএফ পালাক্কাডে অন্তত পাঁচটি আসন জয়ের জায়গায় আছে।
প্রকাশ্যে বিরোধী নেতা সতীশন অবশ্য দাবি করছেন, ‘‘পঞ্চায়েত ও পুরভোটেই বিজয়ন সরকারের বিদায়-ঘণ্টা বেজে গিয়েছে! বাকিটা সময়ের অপেক্ষা!’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)