নজির গড়ে টানা দ্বিতীয় বার পিনারাই বিজয়নের ক্ষমতায় ফেরার পিছনে বড় কারণ ছিল কোভিড মোকাবিলায় ‘সাফল্য’। দ্বিতীয় দফায় সরকার গড়ার সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সেই কোভিড মোকাবিলার প্রশ্নেই বিরোধীদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে বিজয়নকে! কারণ, দেশে করোনা সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ আসবে কি না, সেই জল্পনার মাঝেই কেরলে লাফিয়ে বেড়ে গিয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। পরিস্থিতির চাপে বিরোধীদের পাল্টা আক্রমণে না গিয়ে সংক্রমণ ঠেকাতে ফের বিধিনিযেধ কড়া করার পথে যাচ্ছে বাম সরকার।
বিধানসভা ভোটে কেরলে কয়েক মাস আগে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। বিজেপি কোনও আসনই পায়নি। তার উপরে নতুন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নিয়োগের পরে এখন ১৪টি জেলাতেই নয়া সভাপতি মনোনয়নের সিদ্ধান্ত ঘিরে কংগ্রেসে ডামাডোল চরমে। কিন্তু তার মধ্যেও কোভিড সংক্রমণ বেড়ে চলার ঘটনাকে হাতিয়ার করে ‘আইসিইউ আন্দোলন’ শুরু করে দিয়েছে কংগ্রেস। রাস্তার ধারে ছোট ছোট সভা এবং প্রতীকী চিকিৎসা করে বিরোধী নেতারা অভিযোগ করছেন, দক্ষিণী এই রাজ্য এখন আইসিইউ-এ পরিণত হয়েছে! সরব বিজেপিও।
সরকারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেরলে গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৩১ হাজার ২৬৫ জনের। রাজ্যে ‘পজ়িটিভিটি’র হার ১৮.৬৭%। ‘অ্যাক্টিভ’ রোগী প্রায় দু’লক্ষ ১০ হাজার। সর্বশেষ ১৫৩ জনের মৃত্যু ধরে শনিবার পর্যন্ত মোটের মৃতের সংখ্যা ২০ হাজার ৪৬৬। বাংলার সঙ্গে তুলনামূলক পরিসংখ্যান বিচার করলেই বিপদের মাত্রা আরও পরিষ্কার বোঝা যেতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলায় এখন ‘অ্যাক্টিভ’ রোগী ৯ হাজার ১০৯। বাংলায় শনিবারের আগে শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৬১ জন, যা কেরলের ক্ষেত্রে ৩১ হাজারের বেশি। বস্তুত, পরপর চার দিন কেরলে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে।
এমন পরিসংখ্যানকে সামনে রেখেই কংগ্রেস নেতা ও তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদ শশী তারুরের বক্তব্য, ‘‘দেশের মধ্যে সব চেয়ে বেশি কোভিড আক্রান্ত এখন পাওয়া যাচ্ছে কেরলেই। গোটা রাজ্যটাই আইসিইউ-এ যাওয়ার মতো অবস্থা! অথচ দেশে দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রাবল্য এখন কমে এসেছে।’’ তবে তারুর একই সঙ্গে বলেছেন, ‘‘রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য আমরা কিছু বলছি না। সরকারকে সতর্ক করতে চাইছি। সকলকে একসঙ্গেই এই বিপদের মোকাবিলা করতে হবে।’’
কেরলে গত বছর করোনা পরিস্থিতি সামাল দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন বিগত বাম সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে শৈলজা। কিন্তু এ বার তাঁকে মন্ত্রিসভায় রাখেননি বিজয়নেরা। নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জের মতে, বাড়িতেই যাঁদের নিভৃতবাসে থাকতে বলা হয়েছে, তাঁদের উপরে নজরদারি সম্ভবত ঠিকমতো হয়নি। এখন স্বাস্থ্য দফতরের হস্তক্ষেপ বাড়াতে হবে। তবে সংক্রমণ বাড়লেও আইসিইউ এবং ভেন্টিলেশনে রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক ভাবে বাড়েনি বলেই মন্ত্রীর দাবি।
মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন বলছেন, ‘‘স্বাধীনতা দিবস এবং ওনাম উপলক্ষে গত দু’সপ্তাহে বিধিনিযেধ বেশ কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল। তার জেরে সংক্রমণ বেড়ে গিয়ে থাকতে পারে। এই সপ্তাহেই আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রের চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে দফায় দফায় আলোচনায় বসব। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেওয়া যাবে না।’’ ইদানিং কেরলে আক্রান্ত এলাকায় রাতের কার্ফু জারি ছিল। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরামর্শ মেনে সব জেলাতেই আজ, সোমবার থেকে চালু হচ্ছে রাত কার্ফু। আর রবিবার থাকছে কড়া লকডাউন। সেই সঙ্গেই গতি বাড়ানো হচ্ছে টিকাকরণের।