Advertisement
E-Paper

‘সোমবারই ছেড়ে দিত’! কটকের অগ্নিকাণ্ডে বাবাকে হারিয়ে দিশাহারা পুত্র, আতঙ্ক-বিশৃঙ্খলা হাসপাতাল চত্বরে

সোমবার ভোরে ওড়িশার কটকের এসসিবি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ-র অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন রুশবু পারিদার শতায়ু বাবা। শুধু একা তিনি নন, অগ্নিকাণ্ডে নিজের বাবাকে হারান পুষ্পলতা পুহানও।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ২২:২৮
Panic and chaos at Cuttack hospital

ওড়িশার কটকের হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ঝলসে মৃত্যু অনেকের। ছবি: পিটিআই।

মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। আইসিইউ-তে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে লড়তে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়েও উঠেছিলেন। রবিবার বিকেলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান, সোমবারই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে। বাড়ি যেতে পারবেন। কিন্তু বাড়ি যাওয়া আর হল না। সোমবার ভোরে ওড়িশার কটকের এসসিবি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ-র অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন রুশবু পারিদার শতায়ু বাবা। তিনি একা নন, অগ্নিকাণ্ডে নিজের বাবাকে হারান পুষ্পলতা পুহানও। রুশবু, পুষ্পলতার মতো আরও কিছু মুখ দেখা গেল হাসপাতালের মর্গে। তাঁদের মধ্যে কেউ হারিয়েছেন বাবাকে, কেউ মাকে, আবার কেউ নিকট আত্মীয়কে। প্রত্যেকের চোখেমুখে শোকের ছায়া।

এসসিবি হাসপাতালের বাইরে বাবার দেহ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন ৫৭ বছর বয়সি রুশবু। সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে তিনি বলেন, ‘‘ষাঁড়ের আক্রমণে আমার বাবা মাথায় গুরুতর চোট পেয়েছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসা পর তিনি অনেকটা সুস্থ হয়েও উঠেছিলেন। ডাক্তারেরা আমাকে বলেছিলেন, সোমবারই ছেড়ে দেবেন। দুর্ভাগ্য, আগুনে পুড়ে মৃত্যু হল তাঁর।’’

আগুন লাগার সময় হাসপাতালেই ছিলেন রুশবু। আইসিইউ-র বাইরে মেঝেতে ঘুমাচ্ছিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে নার্স এবং নিরাপত্তাকর্মীরা আমাদের সরিয়ে দেন। তবে আমরা আইসিইউ-তে ঢোকার চেষ্টা করছিলাম কারণ ভেতরে আমার বাবা ছিল। তবে আমাদের কেউ ঢুকতে দেননি। চারপাশে ধোঁয়ায় ভরে যায়। কিছু ক্ষণ পর আমি বাবার খোঁজ করি। সকালে জানতে পারি তাঁর শরীর পুরো ঝলসে গিয়েছে।’’

একই দাবি করলেন পুষ্পলতাও। তাঁর বাবা ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গত পাঁচ দিন ধরে ভর্তি ছিলেন ওই হাসপাতালের আইসিইউ-তে। পুষ্পলতার কথায়, ‘‘চিকিৎসায় ধীরে ধীরে সাড়া দিচ্ছিল বাবা। নিজে হাঁটাচলাও করতে পারছিলেন। আগুন লাগার পর আইসিইউ-তে খোঁজ করেছিলাম, কিন্তু তাঁকে পায়নি। সকালে এসে ট্রমা কেয়ার সেন্টারে এসে বাবার আধার কার্ড দেখাই, তখন আমাকে বলা হয় মর্গে যেতে।’’

কটকের ওই হাসপাতালের আইসিইউ-তে সোমবার ভোর ৩টে নাগাদ আচমকা আগুন লেগে যায়। দ্রুত ওয়ার্ডে আগুন ছড়িয়ে যায়। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। হাসপাতালের কর্মীরা ‌যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আইসিইউ থেকে রোগীদের সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ১০ জনকে বাঁচানো যায়নি।

Cuttack Fire breaks out
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy