দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির অমর কলোনিতে এক আমলার বাসভবনে ঢুকে তাঁর কন্যাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ উঠল প্রাক্তন পরিচারকের বিরুদ্ধে। তরুণীকে ধর্ষণের পর ফোনের চার্জার দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। যে সময় ঘটনাটি ঘটেছে, সেই সময় বাড়িতে একাই ছিলেন আমলা-কন্যা।
পুলিশ জানিয়েছে, আমলা-কন্যার বয়স ২২। আইআইটি দিল্লির স্নাতক। ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশের যুগ্ম কমিশনার বিজয় কুমার জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত পরিচারক অনলাইন গেমে আসক্ত ছিলেন। তিনি ওই ভিভিআইপি এলাকার আরও বেশ কয়েকটি আবাসনের নিরাপত্তারক্ষী, পরিচারকদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে গেম খেলতেন। কিন্তু টাকা ফেরত দিতেন না। তাঁর বিরুদ্ধে বার বার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ জানিয়েছে, মাসখানেক আগে পরিচকারককে তাড়িয়েও দিয়েছিলেন আমলা।
বুধবার সকলের অলক্ষ্যে আমলার বাসভবনে ঢুকেছিলেন অভিযুক্ত পরিচারক। যেহেতু আগে থেকেই জানতেন, কোথা দিয়ে বাসভবনে ঢুকলে কারও নজরে পড়বেন না তিনি। তার পর আমলার কন্যাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। আমলার পরিবারের সদস্যেরা তরুণীকে ঘরের মধ্যে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করে। বাসভবনের সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্ত পরিচারককে শনাক্ত করা হয়। তার পরই তাঁর খোঁজে শুরু হয় তল্লাশি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দ্বারকার একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরিচারকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, খুন এবং ডাকাতির অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজস্থানের অলওয়ারের বাসিন্দা অভিযুক্ত পরিচারক। ঘটনার আগের দিন সেখান থেকে দিল্লিতে আসেন। বুধবার সকালে আমলার বাসভবনে ঢোকেন। তাঁর কাছে আগে থেকেই একটি ডুপ্লিকেট চাবি ছিল। এ ছাড়াও বাসভবনে ঢোকার জন্য পাসওয়ার্ড কোডও জানতেন। সেটি ব্যবহার করে আমলার বাসভবনে ঢুকে সোজা তাঁর কন্যার ঘরে যান। এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে ইন্ডিয়া টুডে-র এক প্রতিবেদন বলছে, আমলার বাসভবনে ঢুকতে গেলে বহু স্তরীয় নিরাপত্তা টপকাতে হয়। এ ছাড়াও বাসভবনের প্রতিটি তলে প্রবেশের জন্য পাসকোড রয়েছে। আমলার ঘরে ঢোকার জন্য চারটি তালা খুলতে হয়। পুলিশের সন্দেহ, ডুপ্লিকেট চাবি বানিয়েছিলেন অভিযুক্ত পরিচারক। এ ছাড়াও পাসকোডও জানতেন। ফলে প্রবেশের পথ আরও সহজ হয়েছিল তাঁর কাছে। বুধবার সকাল ৬টা ২৮ মিনিটে আমলার বাসভবনে ঢুকতে দেখা যায় অভিযুক্তকে। সকাল ৭টা ২২ মিনিটে তাঁকে বেরোতে দেখা যায়। সকাল ৮টায় আমলা-কন্যার দেহ উদ্ধার হয়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, আমলা-কন্যাকে ধর্ষণের আগে অলওয়ারেও এক মহিলাকে ওই পরিচারক ধর্ষণ করেন। তার পর সেখান থেকে দিল্লিতে পালিয়ে আসেন মঙ্গলবার। রাতভর দিল্লিতে ঘোরাফেরা করেন। তার পর বুধবার সকালে আমলার বাসভবনে যান। দিল্লি পুলিশের একটি দল যখন অলওয়ারে পৌঁছোয়, তখন তারা জানতে পারে, অভিযুক্ত পরিচারক তাঁর বন্ধুকে স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছেন। একটি অভিযোগও জমা পড়েছে থানায়।