Advertisement
E-Paper

একই অফিসে প্রেম, আগরায় এইচআর ম্যানেজার বান্ধবীকে খুন করে দেহ তিন টুকরো করে যমুনার ধারে ফেলে দিলেন অভিযুক্ত

গত ২৩ জানুয়ারি দুপুর ২টোয় অফিসে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন তরুণী। তার পর থেকে আর বাড়ি ফেরেননি। মোবাইলও সুইচড অফ ছিল। শেষে যমুনা নদীর ধারে উদ্ধার হয় তাঁর মুণ্ডহীন দেহ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩২
(বাঁ দিকে) মিঙ্কি শর্মা এবং তাঁর প্রেমিক বিনয় সিংহ ( ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) মিঙ্কি শর্মা এবং তাঁর প্রেমিক বিনয় সিংহ ( ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।

প্রেমিকাকে খুনের পরে দেহ টুকরো টুকরো করে যমুনা নদীর ধারে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। উত্তরপ্রদেশের আগরার ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম বিনয় সিংহ। তরুণী এবং ওই অভিযুক্ত একই অফিসে কাজ করতেন।

৩২ বছর বয়সি মিঙ্কি শর্মা ছিলেন পেশায় এইচআর ম্যানেজার। কাজ করতেন আগরার এক সংস্থায়। ওই একই সংস্থায় কাজ করতেন অভিযুক্তও। সেখানে কম্পিউটার অপারেটর হিসাবে কর্মরত ছিলেন বিনয়। সেখানেই প্রেম হয় দু’জনের। গত দু’বছর ধরে সম্পর্ক ছিল মিঙ্কি এবং বিনয়ের। তবে গত মাস ছয়েক ধরে সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হতে শুরু করে। সূত্রের দাবি, মিঙ্কি অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন বলে সন্দেহ করতেন বিনয়। পুলিশের অনুমান, সেই সন্দেহের বশেই তিনি মিঙ্কিকে খুন করেছেন।

জানা যাচ্ছে, গত ২৩ জানুয়ারি প্রেমিকার সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়েছিল বিনয়ের। ওই সময়ে রাগের বশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিঙ্কিকে ঘাড়ে কোপ বসান অভিযুক্ত। তার পরে দেহ তিন টুকরো করে ফেলেন। দেহ যাতে কেউ চিনতে না পারে, তা নিশ্চিত করার চেষ্টায় বান্ধবীর ধড় থেকে মুণ্ড আলাদা করে ফেলেন অভিযুক্ত। বাকি দেহটি কোমর থেকে দু’টুকরো করে ফেলেন তিনি। তার পরে দেহের টুকরোগুলি একটি প্লাস্টিকের প্যাকেট ভরেন। প্রেমিকার মুণ্ডটি ভরেন পিঠের ব্যাগে। পরে যমুনা নদীর উপর একটি সেতুর কাছে প্লাস্টিকের প্যাকেটটি ফেলে দেন অভিযুক্ত। বান্ধবীর পরনে জামাকাপড় এবং মুণ্ডটি ফেলেন অন্য একটি ফাঁকা জায়গায়।

নিহতের পরিবারের দাবি, গত ২৩ জানুয়ারি দুপুর ২টোয় অফিসে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন তরুণী। তার পর থেকে আর বাড়ি ফেরেননি। মোবাইলও সুইচড অফ ছিল। মিঙ্কি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যেরা থানায় যোগাযোগ করেন। খোঁজাখুঁজি শুরু করে পুলিশও। শেষে ২৪ জানুয়ারি রাত ১টা নাগাদ নদীর ধারে ওই প্লাস্টিকের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। সেটি খুলতেই বেরিয়ে আসে দু’টি পা এবং কোমর থেকে গলা পর্যন্ত দেহের অংশ। প্রাথমিক ভাবে তরুণীর দেহ শনাক্ত করতে পারছিল না পুলিশ। পরে দেহ শনাক্ত করা গেলেও তরুণীর মাথা এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেটির সন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ।

মুণ্ডহীন ওই দেহ উদ্ধারের পরে পাঁচটি পৃথক দল গঠন করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হয় সিসি ক্যামেরার ফুটেজও। তাতেই ধরা পড়েন বিনয়। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে এক ব্যক্তি স্কুটারে চেপে এসে ওই সেতুর কাছে একটি ব্যাগ ফেলে দিচ্ছেন। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ বিনয়কে চিহ্নিত করে। তাঁকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। সূত্রের খবর, পুলিশি জেরায় ইতিমধ্যে অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন তিনি। ধৃতকে জেরা করে পুলিশ এ-ও জানতে পারে, তরুণীর মুণ্ড, জামাকাপড় এবং মোবাইল-সহ ব্যাগটি একটি নির্জন এলাকায় নর্দমার কাছে ফেলে দিয়েছেন বিনয়। সেটি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে খুন এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

Agra Uttar Pradesh Murder Case
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy