মাওবাদীদের ‘দুর্গ’ জঙ্গলে ঘেরা পাহাড়ের উপর অচেনা আশ্রম। সেখানেই বেহুঁশ করে রাখা হয়েছিল দিল্লির মার্বেল ব্যবসায়ীর দুই ছেলেকে। মঙ্গলবার আশ্রমে পুলিশ, সিআরপি হানা দিলে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। পাল্টা জবাব দেয় পুলিশও। অবশেষে উদ্ধার করা হয় দুই ভাইকে।
বিহারের লখিসরাইয়ের কজরা থানার শৃঙ্গীঋষি পাহাড়ে অনেকটা বলিউডের ব্লকবাস্টার সিনেমার কায়দায় ওই অভিযানের নেতৃত্ব দেন পটনার এসএসপি মনু মহারাজ।
ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের বক্তব্য, অপহরণ-কাণ্ডে পটনার দুষ্কৃতী রণজিৎ মণ্ডল ওরফে রণজিৎ ডনের দলের নাম উঠে এসেছে। ওই কাজে সম্ভবত মাওবাদী বা পিএলএফআই জঙ্গিদের সাহায্যও নেওয়া হয়। খোঁজ চলছে ৮ জনের। মুক্তির পর দুই ব্যবসায়ী-পুত্র জানান, ৫ দিন তাঁদের খেতে দেওয়া হয়নি। শুধু মিলত জল। ইঞ্জেকশন দিয়ে সব সময় অজ্ঞান করে রাখা হতো তাঁদের। শনিবার পটনা বিমানবন্দর থেকে দু’জনকে অপহরণ করা হয়। ফোনে ৫ কোটি টাকা মুক্তিপণ চায় দুষ্কৃতীরা। উত্তর ভারতে পাথরের ব্যবসা রয়েছে দিল্লির বাবুলাল শর্মার। ১২ কোটি টাকার টেন্ডার দেওয়ার ‘টোপ’ দিয়ে তাঁর দুই ছেলেকে পটনায় ডাকে দুষ্কৃতীরা। বিমানের টিকিট কেটে দেয় তারাই। বিমানবন্দরে নামতে দু’জনকে গাড়িতে তুলে ইঞ্জেকশন দিয়ে অজ্ঞান করে দেয় দুষ্কৃতীরা।
মুঙ্গেরের হাভেলি খড়্গপুরে সুরেশের মোবাইল ফোনের ‘টাওয়ার লোকেশন’ শেষ বারের মতো মেলে। তাঁদের সংস্থার মুঙ্গেরবাসী এক কর্মীর উপর পুলিশের সন্দেহ হয়। তাকে জেরা করে ক’জন অপহরণকারীর মোবাইল নম্বর পায় পুলিশ। সেই সূত্রে লখিসরাইয়ের ডেরার খোঁজ মেলে। মনু মহারাজ জানান, দুষ্কৃতীদের কয়েক জন পাহাড়ের আশ্রমে অপহৃতদের উপর নজর রাখত। অন্যরা ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোনে মুক্তিপণ চাইত। শৃঙ্গীঋষি পাহাড় মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকা। রাজ্য পুলিশের এডিজি (সদর) সুনীল কুমার বলেন, ‘‘এমন অভিযানের ঝুঁকি বেশি। যে কোনও সময়ে বিপদ হতে পারত।’’
পুলিশ জেনেছে, দুষ্কৃতীদের ওই দলটি ছ’টি অপহরণ করেছে। ক’দিন আগে ইলাহাবাদের এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হয়েছিল। মধ্যপ্রদেশের এক ব্যবসায়ীকেও অপহরণ করেছিল ওই দলটি।